Monday, June 16, 2014
রাবিতে দুই ছাত্রলীগ নেতার পা ও রগ কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা
স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী থেকে | ৩০ এপ্রিল ২০১৪, বুধবার, ৯:১২ |
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রিকশা থেকে নামিয়ে ছাত্রলীগের দুই নেতাকে কুপিয়ে হাত-পা কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল সকাল সোয়া ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হবিবুর রহমান ও জিয়াউর রহমান হলের মধ্যবর্তী স্থানে এ ঘটনা ঘটে। এসময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ছাত্রলীগ নেতা মাসুদের ডান পা গোড়ালি থেকে বিচ্ছিন্ন করে এবং টগরের হাত-পায়ের রগ কেটে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে হামলাকারীরা। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের দু’জনকে ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত আবদুল্লাহ আল মাসুদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। টগর মোহাম্মদ সালেহ ফোকলোর বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
এদিকে ছাত্রলীগ ও পুলিশ দাবি করেছে, শিবির ক্যাডাররা পরিকল্পিতভাবে এ নৃশংস হামলা চালিয়েছে। তবে শিবির এ দাবি অস্বীকার করে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে দায়ী করছে। হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৫ জনকে আটক করেছে মতিহার থানা পুলিশ।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স বিভাগের প্রধান ডা. বি কে দাম জানান,
মাসুদের ডান পা গোড়ালি থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন এবং বাম পা বিচ্ছিন্ন হয়ে চামড়ার সঙ্গে ঝুলে ছিল। ডান হাতের কনুই থেকে কবজি পর্যন্ত মারাত্মক জখম এবং দুই হাতেরই রগ কেটে গেছে। টগরের দু’হাত ও দুই পায়ে কুপিয়ে রগ কেটে দেয়া হয়েছে।
মাসুদের ডান পা গোড়ালি থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন এবং বাম পা বিচ্ছিন্ন হয়ে চামড়ার সঙ্গে ঝুলে ছিল। ডান হাতের কনুই থেকে কবজি পর্যন্ত মারাত্মক জখম এবং দুই হাতেরই রগ কেটে গেছে। টগরের দু’হাত ও দুই পায়ে কুপিয়ে রগ কেটে দেয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মাসুদের অবস্থা খুবই সঙ্কটজনক। তাকে চার ব্যাগ রক্ত দিয়ে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। টগরের অবস্থা মাসুদের চেয়ে কিছুটা ভাল হলেও আশঙ্কামুক্ত নয়। তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকাল সোয়া ৮টার দিকে মাদার বখ্শ হলের গেটের সামনে থেকে মাসুদ ও টগর রিকশা নিয়ে বের হয়। এসময় ওই রিকশার পিছু পিছু দু’টি রিকশায় ৪ আরোহী আসতে থাকে। টগর ও মাসুদকে বহনকারী রিকশাটি জিয়াউর রহমান হল ও শহীদ হবিবুর রহমান রহমান হলের মাঝামাঝি জায়গায় পৌঁছলে পেছনের রিকশা দু’টির আরোহীরা নেমে প্রথমে তাদের রিকশা থামিয়ে রিকশাওয়ালাকে চড়-চাপ্পড় মেরে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বলে। পরে তারা মাসুদ ও টগরের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এসময় তারা পালানোর চেষ্টা করলে হামলাকারীরা মাসুদকে ধরে সেখানে থাকা একটি দোকানের পেছনে ছোট বরই গাছের নিচে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে জখম করে। হামলাকারীরা মাসুদের ডান পায়ের গোড়ালি থেকে পায়ের পাতা বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এছাড়া তার বাম পায়ের রগ ও দু’হাতের বেশ কয়েক জায়গায় মারাত্মক জখম করে। একই সময়ে মাসুদের কাছ থেকে কিছু দূরে টগরকে রাস্তার এক পাশে ফেলে কুপিয়ে দুই পা ও দুই হাতের রগ কেটে ফেলে এবং মাথায় গুরুতর জখম করে। এসময় টগরের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসতে থাকলে পাশের হবিবুর মাঠ থেকে চার যুবক (খালি গায়ে) এসে জিয়া হলের প্রধান ফটকের সামনের রাস্তায় পর পর দু’টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। পরে হামলাকারী এবং ওই চার যুবক মুখে কাপড় বেঁধে বিশ্ববিদ্যালয়ের হবিবুর মাঠ দিয়ে পালিয়ে যায়। আশপাশের লোকজন আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অ্যাম্বুলেন্স যোগে ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়।
রাবি ছাত্রলীগের সহসভাপতি আতিকুর রহমান সুমন জানান, বিকাল পৌনে ৪টার দিকে টগর ও মাসুদকে নিয়ে তারা হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে পৌঁছান। তাদের ইনস্টিউটের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, তাদের জ্ঞান আছে তবে কথা বলতে পারছে না।
ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সরজমিন গিয়ে দেখা গেছে, তিনটি স্পটে (রিকশা থামানোর স্থান, মাসুদ ও টগরের হামলার স্থানে) রক্ত জমাট বেঁধে রয়েছে। জায়গাগুলো পুলিশ ইট দিয়ে ঘিরে রেখেছে।
শিবিরকে দায়ী ও প্রতিবাদে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ: দলীয় নেতাকর্মীর ওপর হামলার ঘটনায় শিবিরকে দায়ী করে এর প্রতিবাদে গতকাল দুপুর ১২টার দিকে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ছাত্রলীগ। সমাবেশ থেকে হামলাকারী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ক্যাম্পাসে শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয়। একই দাবিতে আজ বেলা ১১টায় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। পরে দুপুর ১২টায় সংবাদ সম্মেলন করে পরবর্তী আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানান ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ আল হোসেন মুহিত।
শিবির ও ছাত্রলীগের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য: ছাত্রলীগের দুই নেতার ওপর হামলার ঘটনায় শিবির ও ছাত্রলীগ পরস্পরকে দায়ী করেছেন। ছাত্রলীগের দাবি, শিবিরের ক্যাডাররা ছাত্রলীগের এই নেতাকে হত্যার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত এ হামলা চালিয়েছে। তৌহিদ আল হোসেন তুহিন জানান, শিবির ক্যাডাররা মুখোশ পড়ে প্রকাশ্যে পরিকল্পিতভাবে ছাত্রলীগের দুই নেতার ওপর নৃশংস হামলা চালিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরবিরোধী নানা কর্মকাণ্ডে এ দু’জন মুখ্য ভূমিকা পালন করে আসছে। কয়েক দিন আগেও বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সভাপতি তাদের (আহত) দু’জনের নাম উল্লেখ করে আমাকে হুমকি দিয়েছিল। সুতরাং, আমরা নিশ্চিত হয়েছি, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সন্ত্রাসীরাই এ হামলা চালিয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবির এ ঘটনার সঙ্গে ছাত্রলীগই জড়িত বলে অভিযোগ তুলেছে। বিশ্ববিদালয় শাখা শিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক শোয়েব শাহরিয়ার বলেন, গত ২৩শে এপ্রিল দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের টুকিটাকি চত্ব্বরে হামলার শিকার মাসুদ ছাত্রলীগের আরেক কর্মী কবিরকে মারধর করে। একপর্যায়ে তারা একে অপরকে মারার জন্য জামার নিচ থেকে আগ্নেয়াস্ত্রও বের করে। পরে ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ এসে মীমাংসা করে দেয়। এ ঘটনার সঙ্গে শিবিরের বিন্দুমাত্র সংশ্লিষ্টতা নেই দাবি করে শিবিরের এ নেতা বলেন, রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে কোন অঘটন ঘটিয়ে তার দায়ভার শিবিরের ওপর চাপানো নতুন কোন ঘটনা নয়। পূর্বশত্রুতার জের ও ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে।
প্রশাসনের বক্তব্য: বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক ড. তারিকুল হাসান বলেন, যেভাবে অমানবিক হামলা চালানো হয়েছে তা খুবই দুঃখজনক। হামলার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছি। আশা করছি, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের পুলিশ প্রশাসন খুব শিগগিরই গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হবে।
নগরীর মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, ‘শিবির ছাড়া হাত পায়ের রগ আর কে কাটতে পারে? ছাত্রশিবিরই এ হামলা চালিয়েছে।’ ওসি জানান, হামলাকারীদের ধরতে পুলিশ অভিযানে নেমেছে। ইতিমধ্যে ১৫ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে।
http://mzamin.com/details.php?mzamin=MjEzMDI=
http://www.banglanews.com.bd/index.php/component/k2/item/5878-%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%97%E0%A6%9E%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A7%87-%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%BE-%E0%A6%9B%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%B2%E0%A7%80%E0%A6%97%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%97%E0%A6%A0%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%95-%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%A4-%E0%A6%AA%E0%A6%BE-%E0%A6%8F%E0%A6%B0-%E0%A6%B0%E0%A6%97-%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%9F%E0%A7%87-%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A7%87%E0%A6%9B%E0%A7%87-%E0%A6%A6%E0%A7%81%E0%A6%AC%E0%A7%83%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%B0%E0%A6%BE#sthash.SXQDxOzW.dpbs
http://www.dailyjanakantha.com/news_view.php?nc=15&dd=2014-05-01&ni=171543
http://www.alokitobangladesh.com/first-page/2014/04/30/69429
http://www.banglanews24.com/beta/printpage/page/230211.html




