.

Saturday, September 13, 2014

অরাজনৈতিক সাংসদ "দোদুল" এর যত ভুল

মেহেরপুর-১ (সদর) আসনের আওয়ামী লীগের সাংসদ ফরহাদ হোসেন অরাজনৈতিক ব্যক্তি হওয়ায় দল আজ পথে বসেছে। নেতা-কর্মীরা রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনে উৎসাহ হারিয়েছেন। জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের মতো কর্মসূচিতেও সাংসদ যোগ দেননি।
গতকাল শনিবার দুপুর ১২টার দিকে জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে আয়োজিত জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মিয়াজান আলী এ অভিযোগ করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, মঞ্চে জেলা, মুজিবনগর ও গাংনী উপজেলা আওয়ামী লীগ এবং যুবলীগের নেতা-কর্মীরা থাকলেও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের কোনো নেতা নেই। সভায় শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি ইয়ারুল ইসলামের ওপর থেকে (সংসদ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায়) বহিষ্কারাদেশ তুলে নেওয়া হয়।
সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক সাংসদ জয়নাল আবেদীন বর্তমান সাংসদের সমালোচনা করে বলেন, ‘সাংসদ ঢাকায় শিক্ষকতা করতেন। এলাকার রাজনীতির সঙ্গে তিনি কখনোই সম্পৃক্ত ছিলেন না। ঢাকায় অবস্থানের কারণে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে তিনি ব্যর্থ হচ্ছেন। সবকিছুর নিয়ন্ত্রক বনে গেছেন সাংসদের ঘনিষ্ঠজনেরা।’
এ প্রসঙ্গ টেনে মেহেরপুর শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি ইয়ারুল ইসলাম বলেন, অরাজনৈতিক ব্যক্তি হওয়ায় সাংসদ রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার বিষয়টি তোয়াক্কা করেন না। তাই টেন্ডারবাজি, হাট-ঘাট-বাজার দখল ও ইজারা, শহরের প্রাণকেন্দ্রে অন্যের ভবন ভেঙে কোটি টাকার জমি দখল, পল্লী বিদ্যুৎ অফিস নিয়ন্ত্রণের নামে প্রতিটি বিদ্যুৎ লাইন সংযোগে ঘুষ গ্রহণ, নিয়োগ-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন স্কুল-কলেজের পরিচালনা কমিটি ও জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক কমিটি সাংসদের আত্মীয়স্বজন দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। সাংসদের অবর্তমানে এসব কিছুর নিয়ন্ত্রক তাঁর ভগ্নিপতি (জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি) আবদুস সামাদ বাবলু বিশ্বাস।
এদিকে নির্বাহী কমিটির এই সভাকে অগঠনতান্ত্রিক এবং অবৈধ দাবি করে আওয়ামী লীগের একাংশের নেতারা গতকাল সন্ধ্যা ছয়টায় আবদুস সামাদ বাবলু বিশ্বাসের বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করেন। এ সময় আবদুস সামাদ বাবলু বিশ্বাস বলেন, আগের সাংসদের মতো বর্তমান সাংসদ ও তিনি দলে ক্যাডার, সন্ত্রাসী, দখলবাজ, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজদের প্রশ্রয় দেন না। এ কারণে একটি চক্রটি সাংসদের স্বচ্ছ রাজনীতিকে দুর্নীতির সঙ্গে তুলনা করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রসুল বলেন, যাঁরা বিগত জাতীয় সংসদ ও উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিরোধিতা করেছিলেন, আজ তাঁরাই নির্বাহী কমিটির সভা ডেকে আওয়ামী লীগ সাজছে।
এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আসকার আলী ও সাংগঠনিক সম্পাদক আনারুল ইসলাম, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাফুয়ান আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক বারিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
সাংসদ ফরহাদ হোসেনের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অরাজনৈতিক লোককে সাংসদ বানানোর কারনে ভরাডুবিতে মেহেরপুর জেলা আওয়ামীলীগ । দলের কোন কর্মকাণ্ডে কর্মীরা অংশ নিচ্ছেন না ঠিকমত । কর্মীরা বলছেন সাংসদ এর কাছে কোন দাবী নিয়ে গেলে সাহায্য তো দুরের কথা তিনি তাদের চিন্তেই পারেন না । তাছাড়া কর্মী সমাবেশ ও হয় নাই তিনি সাংসদ হবার পর থেকে ।
সুত্র ঃ প্রথম আলো