.

Saturday, February 9, 2019

ইতিহাসের দায় মোচন

স্বাধীনতার সূতিকাগার মেহেরপুরের মুজিবনগর। ১৯৭১ সালে এই মেহেরপুরের মুজিবনগর থেকে স্বাধীনতার ঘোষনাপত্র পাঠ করা হয়। যে মেহেরপুর থেকে প্রথম সরকারের গঠন হয়েছেলো সেই পূন্যভূমিতে স্বাধীনতার ৪৮ বছরেও কেউ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেননি।
আজ থেকে ৪৮ বছর আগে মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে এক অনাড়ম্বর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকারের শপথ গ্রহণ। সেদিন শপথ অনুষ্ঠানে পাঠ করা হয় স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।আর সেই থেকে বৈধনাথতলার নাম দেওয়া হয় মুজিবনগর।বাংলাদেশের সব থেকে ছোট জেলা মেহেরপুর। যেখানে মাত্র দুইটি আসন।তবে সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার ভিতর মুজিবনগরের কারনে মেহেরপুর জেলা অন্যতম। আর বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মন্ত্রী হয়েছে,কিন্তু এমন একটি ঐতিহাসিক মুজিবনগরের মেহেরপুর থেকে এখনো প্রর্যন্ত কেউ মন্ত্রী হননি। তাই এই জেলা থেকে অত্যান্ত ১জনকে মন্ত্রী হিসাবে দেখতে সকল মেহেরপুরবাসীর প্রানের দাবী ছিল ।

২০১৯ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে  মেহেরপুরে মন্ত্রী পরিষদে প্রথম বারের মত স্থান পেয়েছেন ফরহাদ হোসেন। আর সেই সাথে দায় মোচন হল  ইতিহাসের । 

ফরহাদ হোসেনের নাম ঘোষনার পরপরই শহরসহ মেহেরপুর-১ আসনের বিভিন্ন এলাকায়  স্থানীয় ব্যাক্তিরা তাদের প্রতিক্রিয়ায় জানান, ইতিহাসের দায় মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পার হলেও ঐতিহাসিক মুজিবনগর বরাবরই থেকেছে উপেক্ষিত। মেহেরপুর বাসীর দির্ঘদিনের কাংখিত স্বপ্ন পূরণের পথে এক ধাপ এগিয়ে গেল মেহেরপুর।
উল্লেখ 
ফরহাদ হোসেন দোদুলের পিতা মরহুম মোহাম্মদ সহিউদ্দিন মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। তিনি ১৯৭০ সালে মেহেরপুর থেকে তৎকালীন পাকিস্থান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৭৩ সালে মোহাম্মদ সহিউদ্দিন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে মেহেরপুর আসন থেকে নির্বাচিত হন এবং ৭৫ সালে মেহেরপুর জেলার গর্ভনর নিযুক্ত হন। তিনি ৮৬ সালেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ৬৭ বছর বয়সে ১৯৯০ সালে মৃত্যু বরণ করেন।তার তৃতীয় পুত্র ফরহাদ হোসেন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২য় বারের মতো এমপি নির্বাচিত হন। পেশায় তিনি ঢাকা সিটি কলেজের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন।