.

Tuesday, August 5, 2025

প্রতিমন্ত্রী ফরহাদের আয় বেড়েছে, স্ত্রীর বেড়েছে সম্পদ

 

২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ফরহাদ হোসেন কলেজে শিক্ষকতা করে বছরে আয় করতেন ৬ লাখ ১২ হাজার ৩৪০ টাকা। ১০ বছর পর এখন তিনি কৃষি, ব্যবসা, শেয়ার ও প্রতিমন্ত্রীর পারিশ্রমিক মিলিয়ে বছরে আয় করেন ৭৭ লাখ ১ হাজার ৮৫০ টাকা। যা ২০১৪ সালের তুলনায় ১২ গুণ বেশি।

মেহেরপুর-১ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের তিনটি সংসদ নির্বাচনের হলফনামা বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে তাঁর স্ত্রী সৈয়দ মোনালিসা ইসলামের নগদ ৫ লাখ টাকা ও ৪০ ভরি সোনা থাকলেও এখন তাঁর অস্থাবর সম্পদের আর্থিক মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২০ লাখে। এর মধ্যে নগদ আছে ৪৭ লাখ ও ব্যবসায় বিনিয়োগ আছে ৪০ লাখ টাকা। যদিও কোনো হলফনামাতেই প্রতিমন্ত্রীর স্ত্রীর আয়ের উৎসের কোনো তথ্য উল্লেখ নেই।

ফরহাদ হোসেন টানা তৃতীয়বারের মতো আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর তিনি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০১৮ সালের নির্বাচনের হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় ফরহাদ হোসেন বছরে আয় করতেন ১০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। যার মধ্যে কৃষি খাতে ৪ লাখ, শেয়ার ও সঞ্চয়পত্র থেকে ১৫ হাজার ও অন্যান্য খাত থেকে ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

এবারের হলফনামায় উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী নগদ, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ, জিপ, স্বর্ণালংকার, আসবাব, ইলেকট্রনিক সামগ্রী মিলিয়ে প্রতিমন্ত্রীর অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি ২৭ লাখ ২ হাজার টাকা। ২০১৪ সালে যার পরিমাণ ছিল ২৬ লাখ ৬৬ হাজার ২৩৭ টাকা। ১০ বছরে অস্থাবর সম্পদ ১২ গুণ বেড়েছে। ১০ বছর আগে ফরহাদ হোসেনের হাতে নগদ টাকা ছিল ৯ লাখ। ২০১৮ সালে ছিল ৬ লাখ। এখন তাঁর হাতে নগদ টাকা আছে ১ কোটি ৩৬ লাখ ৬০ হাজার। ওই সময় তাঁর স্ত্রীর হাতে নগদ ছিল ৫ লাখ টাকা। ১০ বছরের ব্যবধানে তা হয়েছে ৪৭ লাখ টাকা। আগে না থাকলেও এখন প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত ঋণ হয়েছে ৫৬ লাখ টাকা।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি গোলাম রসুল বলেন, ফরহাদ হোসেন সংসদ সদস্য হওয়ার পরই তাঁর ও তাঁর পরিবারের প্রত্যেকের অর্থনৈতিক করুণ পরিস্থিতি বদলেছে, যেন আঙ্গুল ফুলে কলাগাছের মতো। এসব অর্থ তিনি কীভাবে আয় করেছেন তা সবার জানা।

সম্পদ বৃদ্ধির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা যখন যৌথ পরিবার ছিলেন তখন কৃষিজমি থেকে তাঁর নিজস্ব কোনো আয় ছিল না। পরিবারের সম্পত্তি বণ্টন হওয়ার পর কৃষিজমি হয়েছে। এই জমি থেকে আয় হতে শুরু করেছে। বেতন–ভাতা থেকে বছরে ৩০ লাখ টাকার সমপরিমাণ যোগ হচ্ছে। তিনি ঢাকায় কয়েকটি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। সেখান থেকেও আয় হয়। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধীরা সব সময় আমার বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার করে আসছে। আমার বিরুদ্ধে একটিও অবৈধ আয়ের উৎস খুঁজে বের করতে পারবে না তারা।’

প্রতিমন্ত্রীর স্ত্রীর নামে ২০১৪ সালে কোনো জমি ছিল না। বর্তমানে তাঁর ২ বিঘা ৫ কাঠা কৃষিজমি রয়েছে, যার আর্থিক মূল্য উল্লেখ করা হয়েছে ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রতিমন্ত্রীর অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নগদ ১ কোটি ৩৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা; ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ২৯ লাখ ১ হাজার টাকা; বন্ড, ঋণপত্র ও শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ ৬ লাখ ৩৩ হাজার টাকা; সঞ্চয়পত্র ও স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ ৪০ লাখ টাকা; ৭৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের জিপ গাড়ি, ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ২৫ ভরি সোনা (বিয়েতে উপহার ও উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া); ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা মূল্যের গৃহস্থালি সামগ্রী; ব্যবসায় বিনিয়োগ ৩১ লাখ ৩৩ হাজার টাকা; ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের শর্টগান ও পিস্তল এবং শেয়ার ব্যালেন্স ১২ হাজার ৭৫৩ টাকা। ২০১৮ সালে তিনি ৭৩ লাখ টাকার একটি জিপ ও ৭ লাখ টাকার একটি মাইক্রোবাস থাকার কথা উল্লেখ করেছিলেন।

স্থাবর সম্পদ হিসেবে প্রতিমন্ত্রীর ২৭৪ দশমিক ৪৫ শতক কৃষিজমি, ৩১ দশমিক ৪৩ শতক অকৃষিজমি ও উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পে ১ হাজার ৬৫৪ বর্গফুটের ফ্ল্যাট হয়েছে; যা ২০১৪ সালের হলফনামায় ছিল না। এগুলো উত্তরাধিকার ও ক্রয়সূত্রে পাওয়া বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১৮ সালে তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ৫১ শতক অকৃষিজমি থাকার কথা উল্লেখ করেছিলেন। তাঁর স্ত্রীর নামে ২০১৪ সালে কোনো জমি ছিল না। বর্তমানে তাঁর ২ বিঘা ৫ কাঠা কৃষিজমি রয়েছে, যার আর্থিক মূল্য উল্লেখ করা হয়েছে ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

প্রতিমন্ত্রীর স্ত্রীর ২০১৪ সালে অস্থাবর সম্পদ হিসেবে ছিল নগদ ৫ লাখ টাকা, বিয়েতে উপহার হিসেবে পাওয়া ৪০ ভরি সোনা, ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকার গৃহস্থালি সামগ্রী। বর্তমানে তাঁর হাতে নগদ ৪৭ লাখ টাকা রয়েছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, সঞ্চয়পত্র বা স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ ২০ লাখ টাকা, সাড়ে ৭ লাখ টাকার একটি মাইক্রোবাস, ১৩০ ভরি সোনা (বিয়েতে উপহার ও উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া), ৪ লাখ টাকার গৃহস্থালি সামগ্রী ও ব্যবসায় ৪০ লাখ টাকার বিনিয়োগ।

এবারের হলফনামায় ফরহাদ হোসেন আয়ের বিভিন্ন খাত উল্লেখ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, কৃষি থেকে তাঁর বছরে আয় ২৫ লাখ ১৮ হাজার টাকা; ব্যবসা থেকে ১৭ লাখ ৭৯ হাজার ৩৭৪ টাকা; শেয়ারবাজার ও ব্যাংক আমানত থেকে ৪ লাখ ২৮ হাজার ২০১ টাকা এবং পারিশ্রমিক, ভাতা, সম্মানি হিসেবে ২৯ লাখ ৭৬ হাজার ২৭৫ টাকা আয় করেন।

https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/acuem30m12

জুলাই ঘোষণাপত্র


 ১। যেহেতু উপনিবেশ বিরোধী লড়াইয়ের সুদীর্ঘকালের ধারাবাহিকতায় এই ভূখণ্ডের মানুষ দীর্ঘ ২৩ বছর পাকিস্তানের স্বৈরশাসকদের বঞ্চনা ও শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল এবং নির্বিচার গণহত্যার বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা করে জাতীয় মুক্তির লক্ষ্যে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিল;

এবং

২। যেহেতু, বাংলাদেশের আপামর জনগণ দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এই ভূখণ্ডে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে বিবৃত সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের ভিত্তিতে উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়নের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছে;

এবং

৩। যেহেতু স্বাধীন বাংলাদেশের ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়ন পদ্ধতি, এর কাঠামোগত দুর্বলতা ও অপপ্রয়োগের ফলে স্বাধীনতা-পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকার মুক্তিযুদ্ধের জন আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়েছিল এবং গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা ক্ষুণ্ন করেছিল;

এবং

৪। যেহেতু স্বাধীনতা-পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকার স্বাধীনতার মূলমন্ত্র গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার বিপরীতে বাকশালের নামে সাংবিধানিকভাবে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করে এবং মতপ্রকাশ ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হরণ করে, যার প্রতিক্রিয়ায় ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর দেশে সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লব সংঘটিত হয় এবং পরবর্তী সময়ে একদলীয় বাকশাল পদ্ধতির পরিবর্তে বহুদলীয় গণতন্ত্র, মতপ্রকাশ ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পুনঃপ্রবর্তনের পথ সুগম হয়,

এবং

৫। যেহেতু আশির দশকে সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ নয় বছর ছাত্র-জনতার অবিরাম সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয় এবং ১৯৯১ ইং সনে পুনরায় সংসদীয় গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়।

এবং

৬। যেহেতু দেশি-বিদেশি চক্রান্তে সরকার পরিবর্তনের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ায় ১ / ১১-এর ষড়যন্ত্রমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার একচ্ছত্র ক্ষমতা, আধিপত্য ও ফ্যাসিবাদের পথ সুগম করা হয়;

এবং

৭। যেহেতু গত দীর্ঘ ষোলো বছরের ফ্যাসিবাদী, অগণতান্ত্রিক এবং গণবিরোধী শাসনব্যবস্থা কায়েমের লক্ষ্যে এবং একদলীয় রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অতি উগ্র বাসনা চরিতার্থ করার অভিপ্রায়ে সংবিধানের অবৈধ ও অগণতান্ত্রিক পরিবর্তন করা হয় এবং যার ফলে একদলীয় একচ্ছত্র ক্ষমতা ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়;

এবং

৮। যেহেতু শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের দুঃশাসন, গুম-খুন, আইন-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ এবং একদলীয় স্বার্থে সংবিধান সংশোধন ও পরিবর্তন বাংলাদেশের সকল রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে ধ্বংস করে;

এবং

৯। যেহেতু, হাসিনা সরকারের আমলে তারই নেতৃত্বে একটি চরম গণবিরোধী, একনায়কতান্ত্রিক, ও মানবাধিকার হরণকারী শক্তি বাংলাদেশকে একটি ফ্যাসিবাদী, মাফিয়া এবং ব্যর্থ রাষ্ট্রের রূপ দিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে;

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। আজ মঙ্গলবার (৫ আগস্ট, ২০২৫) রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। আজ মঙ্গলবার (৫ আগস্ট, ২০২৫) রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতেছবি: দীপু মালাকার

এবং

১০। যেহেতু, তথাকথিত উন্নয়নের নামে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী নেতৃত্বে সীমাহীন দুর্নীতি, ব্যাংক লুট, অর্থ পাচার ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংসের মধ্য দিয়ে বিগত পতিত দুর্নীতিবাজ আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশ ও এর অমিত অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে বিপর্যস্ত করে তোলে এবং এর পরিবেশ, প্রাণবৈচিত্র্য ও জলবায়ুকে বিপন্ন করে;

এবং

১১। যেহেতু শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দল, ছাত্র ও শ্রমিক সংগঠনসহ সমাজের সর্বস্তরের জনগণ গত প্রায় ষোলো বছর যাবৎ নিরন্তর গণতান্ত্রিক সংগ্রাম করে জেল-জুলুম, হামলা-মামলা, গুম-খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়;

এবং

১২। যেহেতু বাংলাদেশে বিদেশি রাষ্ট্রের অন্যায় প্রভুত্ব, শোষণ ও খবরদারিত্বের বিরুদ্ধে এ দেশের মানুষের ন্যায়সংগত আন্দোলনকে বহিঃশক্তির তাঁবেদার আওয়ামী লীগ সরকার নিষ্ঠুর শক্তিপ্রয়োগের মাধ্যমে দমন করে;

এবং

১৩। যেহেতু অবৈধভাবে ক্ষমতা অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগ সরকার তিনটি প্রহসনের নির্বাচনে (২০১৪,২০১৮ ও ২০২৪ এর জাতীয় সংসদ নির্বাচন) এ দেশের মানুষকে ভোটাধিকার ও প্রতিনিধিত্ব থেকে বঞ্চিত করে;

এবং

১৪। যেহেতু, আওয়ামী লীগ আমলে ভিন্নমতের রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, শিক্ষার্থী ও তরুণদের নিষ্ঠুরভাবে নির্যাতন করা হয় এবং সরকারি চাকরিতে একচেটিয়া দলীয় নিয়োগ ও কোটাভিত্তিক বৈষম্যের কারণে ছাত্র, চাকরি প্রত্যাশী ও নাগরিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের জন্ম হয়;

এবং

১৫। যেহেতু বিরোধী রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের ওপর চরম নিপীড়নের ফলে দীর্ঘদিন ধরে জনরোষের সৃষ্টি হয় এবং জনগণ সকল বৈধ প্রক্রিয়া অবলম্বন করে ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াই চালিয়ে যায়;

এবং

১৬। যেহেতু, সরকারি চাকরিতে বৈষম্যমূলক কোটাব্যবস্থার বিলোপ ও দুর্নীতি প্রতিরোধে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক ব্যাপক দমন-পীড়ন, বর্বর অত্যাচার ও মানবতাবিরোধী হত্যাকাণ্ড চালানো হয়, যার ফলে সারা দেশে দল-মত নির্বিশেষে ছাত্র-জনতার উত্তাল গণবিক্ষোভ গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়;

এবং

১৭। যেহেতু ফ্যাসিস্ট শক্তির বিরুদ্ধে অদম্য ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক দল, ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী, শ্রমিক সংগঠনসহ সমাজের সকল স্তরের মানুষ যোগদান করে এবং আওয়ামী ফ্যাসিবাদী বাহিনী রাজপথে নারী-শিশুসহ প্রায় এক হাজার মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করে, অগণিত মানুষ পঙ্গুত্ব ও অন্ধত্ব বরণ করে এবং আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে সামরিক বাহিনীর সদস্যগণ জনগণের গণতান্ত্রিক লড়াইকে সমর্থন প্রদান করে;

এবং

১৮। যেহেতু, অবৈধ শেখ হাসিনা সরকারের পতন, ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের লক্ষ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে জনগণ অসহযোগ আন্দোলন শুরু করে, পরবর্তী সময়ে ৫ আগস্ট ঢাকা অভিমুখে লংমার্চ পরিচালনা করে এবং ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনরত সকল রাজনৈতিক দল, ছাত্র-জনতা তথা সর্বস্তরের সকল শ্রেণি, পেশার আপামর জনসাধারণের তীব্র আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে গণভবনমুখী জনতার উত্তাল যাত্রার মুখে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়;

এবং

১৯। যেহেতু বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট মোকাবিলায় গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ব্যক্ত জনগণের সার্বভৌমত্বের প্রত্যয় ও প্রয়োগ রাজনৈতিক ও আইনি উভয় দিক থেকে যুক্তিসংগত, বৈধ ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত;

এবং

২০। যেহেতু জনগণের দাবি অনুযায়ী এরপর অবৈধ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়া হয় এবং সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে সুপ্রিম কোর্টের মতামতের আলোকে সাংবিধানিকভাবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে ৮ আগস্ট ২০২৪ তারিখে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়;

এবং

২১। যেহেতু, বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণের ফ্যাসিবাদবিরোধী তীব্র আকাঙ্ক্ষা এবং ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদ, বৈষম্য ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্র বিনির্মাণের অভিপ্রায় প্রকাশিত হয়;

এবং

২২। সেহেতু, বাংলাদেশের জনগণ সুশাসন ও সুষ্ঠু নির্বাচন, ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি রোধ, আইনের শাসন এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে বিদ্যমান সংবিধান ও সকল রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের গণতান্ত্রিক সংস্কার সাধনের অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে;

এবং

২৩। সেহেতু, বাংলাদেশের জনগণ বিগত ষোলো বছরের দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রাম কালে এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালীন সময়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক সংঘটিত গুম-খুন, হত্যা, গণহত্যা, মানবতা বিরোধী অপরাধ ও সকল ধরনের নির্যাতন, নিপীড়ন এবং রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি লুণ্ঠনের অপরাধসমূহের দ্রুত উপযুক্ত বিচারের দৃঢ় অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে;

এবং

২৪। সেহেতু, বাংলাদেশের জনগণ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সকল শহীদদের জাতীয় বীর হিসেবে ঘোষণা করে শহীদদের পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং আন্দোলনকারী ছাত্রজনতাকে প্রয়োজনীয় সকল আইনি সুরক্ষা দেওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে।

এবং

২৫। সেহেতু, বাংলাদেশের জনগণ যুক্তিসংগত সময়ে আয়োজিতব্য অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ একটি নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত জাতীয় সংসদে প্রতিশ্রুত প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কারের মাধ্যমে দেশের মানুষের প্রত্যাশা, বিশেষত তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী আইনের শাসন ও মানবাধিকার, দুর্নীতি, শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন ও মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে।এবং

২৬। সেহেতু বাংলাদেশের জনগণ এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছে যে একটি পরিবেশ ও জলবায়ু সহিষ্ণু অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়ন কৌশলের মাধ্যমে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার সংরক্ষিত হবে।

এবং

২৭। বাংলাদেশের জনগণ এই অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে যে, ছাত্র-গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪-এর উপযুক্ত রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করা হবে এবং পরবর্তী নির্বাচনে নির্বাচিত সরকারের সংস্কারকৃত সংবিধানের তফসিলে এ ঘোষণাপত্র সন্নিবেশিত থাকবে।

এবং

২৮। ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানে বিজয়ী বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে এই ঘোষণাপত্র প্রণয়ন করা হলো।


Thursday, April 18, 2024

ফরহাদ হোসেন মন্ত্রী হওয়ায় মেহেরপুরে আনন্দের বন্যা

১১ জানুয়ারি ২০২৪, ২০:৪১

ফরহাদ হোসেন মেহেরপুর-১ আসন থেকে টানা তিন বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। 

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে জয়ের পর পূর্ণ মন্ত্রী হয়ে পুনরায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন

২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনে জয়ের পর জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান এ রাজনীতিবিদ।

বাংলাদেশের প্রথম রাজধানী মুজিবনগরের মেহেরপুরে এই প্রথম মন্ত্রী হলেন। এই খবরে তার বাড়ির সামনে হাজারো মানুষ ভিড় করে। শুরু হয় মিষ্টি বিতরণ।

ফরহাদ হোসেন এমপি থাকাকালে ব্যাপক উন্নয়ন ছাড়াও মেহেরপুরকে সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত জেলা গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

এমপি ফরহাদ হোসেন দোদুলের পিতা প্রয়াত মোহাম্মদ সহিউদ্দিন মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। তিনি ১৯৭০ সালে মেহেরপুর থেকে তৎকালীন পাকিস্থান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম সংগঠক প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

১৯৭৩ সালে মোহাম্মদ সহিউদ্দিন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে মেহেরপুর আসন থেকে নির্বাচিত হন এবং ৭৫ সালে মেহেরপুর জেলার গর্ভনর নিযুক্ত হন। তিনি ৮৬ সালেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এই অঞ্চলের অবিসংবাদিত নেতা ৬৭ বছর বয়সে ১৯৯০ সালে মৃত্যু বরণ করেন। তিনি ছিলেন মেহেরপুরর অজাতশত্রু।

প্রয়াত সহিউদ্দীনের তৃতীয় পুত্র ফরহাদ হোসেন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২য় বারের মতো এমপি নির্বাচিত হন। তিনি ঢাকা সিটি কলেজের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন।


Wednesday, December 7, 2022

পাপ বাপকেউ ছাড়ে না , পুরান পাপী -১

 







Thursday, June 16, 2022

মেহেরপুর পৌরসভাসহ ইউপিতে নৌকা ৩ একটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী

 

মেহেরপুর পৌরসভা নির্বাচনে মাহফুজুর রহমান রিটন বিপুল ভোটে দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়াও ৪ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনটিতে নৌকা এবং একটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয় লাভ করেছেন।

মেহেরপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মনোনিত নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী মাহফুজুর রহমান রিটন পেয়েছেন ১৫ হাজার ৪৬১ ভোট। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক মেয়র মোতাচ্ছিম বিল্লাহ মতু নারকেল গাছ প্রতীকে পেয়েছেন ৭ হাজার ৪৪৬ ভোট।

এদিকে, আমঝুপি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনিত  ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বোরহান উদ্দীন চুন্নু দ্বিতীয়বারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি নৌকা প্রতীকে নিয়ে পেয়েছেন ৮ হাজার ৫২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শফিকুল ইসলাম ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৭ হাজার ৪৬৫ ভোট।

পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি  দ্বিতীয়বারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে আব্দুস সামাদ বাবলু বিশ্বাস।

তিনি নৌকা প্রতীকে তিনি ৮ হাজার ৫৩ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুস সালাম আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ২১০ ভোট।

নবগঠিত বারাদী ইউনিয়নে প্রথমবারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোমিনুল ইসলাম। নৌকা প্রতীকে তিনি ৫ হাজার ৩২ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আরমান আলী ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ৮৫৪ ভোট।

এছাড়া শ্যামপুর ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী মতিয়ার রহমান চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। চশমা প্রতীকে তিনি ৬ হাজার চার ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হাসেম আলী ঘোড়া প্রতীকে ৩ হাজার ২৩১ ভোট পেয়েছেন।





টানা দ্বিতীয় মেয়াদে নগরপিতা হলেন মাহফুজুর রহমান রিটন

 

জুন ১৫, ২০২২

মেহেরপুর পৌরসভা নির্বাচনে ৮০১৫ ভোটের ব্যাবধানে মাহফুজুর হমান রিটন পুন: নির্বাচিত হয়েছেন। মাহফুজুর রহমান রিটন নৌকা প্রতিক নিয়ে ১৫৪৬১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকট তম প্রতিদ্বন্ধী একমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী মোতাছিম বিল্লাহ মতু (নারকেল গাছ) ৭৪৪৬  ভোট পেয়েছেন।

মেহেরপুর পৌরসভার ৯ টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ৩৪ হাজার ৭৮৪ জন। এদের মধ্যে নারী ভোটার সংখ্যা ১৮ হাজার ১৫ ও পুরুষ ভোটার সংখ্যা ১৬ হাজার ৭৬৯ জন। পৌরসভায় ১ হাজার ২৪৬ জন নারী ভোটার বেশী পুরুষের তুলনায়।

মেহেরপুর জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ আবু আনছার জানান, এরই মধ্যে সার্বিক প্রস্ততি শেষ হয়েছে। আশা করছি একটি অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সব ঠিকঠাক থাকলে কাল সকাল থেকে ভোটাররা কেন্দ্রে গিয়ে ভয়ভীতির উর্দ্ধে থেকে পছন্দের প্রার্থীদের ভোট দিবে।

পৌরসভায় সাধারণ সদস্য পদে ৪৩ ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ১৫ জন প্রার্থী  প্রতিদ্বন্দিতা করবেন  

মেহেরপুর পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী মাহফুজুর রহমান রিটন (নৌকা) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মোতাচ্ছিম বিল্লাহ মতু (নারিকেল গাছ) প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।এছাড়া ১ নং ওয়ার্ডে মোয়াজ্জেম হোসেন (টেবিল ল্যাম্প) মীর জাহাঙ্গীর আলম (পানির বোতল) গোলাম ফারুক (পাঞ্জাবী), রাজীব আহম্মেদ (ডালিম), রাশেদুজ্জামান (উটপাখি) ২ নং ওয়ার্ডে সঞ্জয় কুমার শাহ (উটপাখি), আল মামুন (টেবিল ল্যাম্প), তপন কুমার (পাঞ্জাবী), ওয়াসিম খান (ব্লাকবোর্ড), শফিকুল ইসলাম (ডালিম), ইয়াসিন আলী শামীম হোসেন (পানির বোতল), তিন নং ওয়ার্ড ইনছান আলী (টেবিল ল্যাম্প), শাকিল রাব্বী ইভান (ডালিম), সৈয়দ আবু আব্দুল্লাহ (পানির বোতল), জাহাঙ্গীর আলম (উটপাখি), ৪ নং ওয়ার্ড আব্দুর রহিম (পানির বোতল), নুরুল ইসলাম (ডালিম), রিয়াজ উদ্দীন (উটপাখি) ৫ নং ওয়ার্ড হাসেম আলী (উটপাখি), এসএম আবুল হাসনাত (পানির বোতল), শরিফুল ইসলাম (টেবিল ল্যাম্প), আক্তারুল ইসলাম (পাঞ্জাবী), মোস্তাক আহম্মেদ (ব্রীজ), ৬ নং ওয়ার্ড সৈয়দ মুঞ্জুরুল হাসান (পানির বোতল), শামীম রেজা (টেবিল ল্যাম্প), বোরহানুল াাযীম (উটপাখি), শাহিনুর রহমান (পাঞ্জাবী), ৭ নং ওয়ার্ডে এসএম ফিরোজুর রহমান (পাঞ্জাবী), নুরুল আশরাফ রাজীব (উটপাখি),মনিরুল ইসলাম (পানির বোতল), ইলিয়াস হোসেন (গাজর), তারিকুল ইসলাম (টেবিল ল্যাম্প) ৮ নং ওয়ার্ড খন্দকার শফিউল কবীর (পাঞ্জাবী), সৈয়দ মুঞ্জুরুল কবীর (ডালিম), একে শাকিল আহম্মেদ (পানির বোতল), আব্দুস সাত্তার (ব্রীজ), সাখাওয়াত হোসেন (টেবিল ল্যাম্প), মতিয়ার রহমান (গাজর), নাজমুল হাসান (ব্লাকবোর্ড), রিন্টু রহমান (উটপাখি), ৯ নং ওয়ার্ড সোহেল রানা ডলার ( পানির বোতল),মোহাম্মদ বিন কাশেম (উটপাখি), আমিরুল ইসলাম (টেবিল ল্যাম্প)এছাড়া সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১ নং ওয়ার্ড ইতি বেগম (বলপেন), আল্পনা খাতুন (জবা ফুল), দিল আফরোজ (চশমা),মনোয়ারা খাতুন (আনারশ), ২ নং ওয়ার্ড শিউলী আক্তার (জবা ফুল), ফিরোজা খাতুন (চশমা), মোমেনা বেগম (আঙটি), বিলকিস খাতুন (আনারস) পলি খাতুন (অটোরিকসা), আফরোজা আক্তার (টেলিফোন), শারমীন আক্তার (বলপেন) খাদিজা বেগম (দ্বিতল বাস), ৩ নং ওয়ার্ড সীমা চৌধুরী (জবা ফুল), হামিদা খাতুন (চশমা), রোকসানা (আনারস)প্রতিকে ভোট করছেন।

মেহেরপুর পৌরসভায় মোট ২০ টি ভোট কেন্দ্রে ১২২ টি কক্ষে ভোট গ্রহণ চলবে।

১ নং ওয়ার্ডে ভোট কেন্দ্র মিশন প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভোটার সংখ্যা ১৩৩০ জন, গ্লোরিয়াস প্রি ক্যাডেট একাডেমী ভোট কেন্দ্র, ভোট সংখ্যা ২০১৮ জন ও নতুনপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে মোট ভোটার ১৬৮১ জন।, ২ নং ওয়ার্ডে সরকারী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় দক্ষিণ ভবন ভোট কেন্দ্রে ভোট সংখ্যা ১৮৮৯ জন, সরকারী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় উত্তর পশ্চিম ভবন ভোট কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ১৮৪৪ জন।, ৩ নং ওয়ার্ডে তাঁতীপাড়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসা দক্ষিণ ভবন ভোট কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ১৪৩৮ জন, তাঁতীপাড়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসা উত্তর ভবন ভোট কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ১৫২৮ জন, ৪ নং ওয়ার্ড শেখপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ১৫৮৪ জন, সহি উদ্দীন ডিগ্রী কলেজ ভোট কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ২১১১ জন, কালাচাঁদপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ১৪৩০ জন। ৫ নং ওয়ার্ডে হোলি পাবলিক প্রি ক্যাডেট এন্ড জুনিয়র হাইস্কুল ভোট কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ১১৮২ জন, দীঘিরপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ২২১৯ জন, ৬ নং ওয়ার্ড বড়বাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ১৬৪২ জন, পৌর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে মোট ভোটার সংথ্যা ১২২২ জন। ৭ নং ওয়ার্ড, সরকারী উচ্চ বালক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে (পশ্চিম ভবন) মোট ভোটার ২৪৬৭ জন, সরকারী উচ্চ বালক বিদ্যালয় পূর্ব ভবন ভোট কেন্দ্রে ভোট সংখ্যা ২৬৪৫ জন, ৮ নং ওয়ার্ড মেহেরপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্র নতুন ভবন, ভোটার সংখ্যা ১৪৫৯ জন, একই কেন্দ্রের পুরাতন ভবন ভোট কেন্দ্রে মোট ভোটার ১৫৯৩ জন, ৯ নং ওয়ার্ড মেহেরপুর দারুল উলুম আহমাদীয় ফাজিল মাদ্রাসা এক নং ভোট কেন্দ্রে মোট ভোটার ১৭৭৬ জন ও একই কেন্দ্রের ভোটার সংখ্যা ১৯২৬ জন।

তিনটি ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর ভোট ১ নং ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ১১৫২৮ জন, ২ নং ওয়ার্ডে ১১৩৯০ জন ও ৩ নং ওয়ার্ডে ১১৮৬৬ জন।

Wednesday, March 23, 2022

ধর্ষণের অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কৃত ছাত্র ইউনিয়ন নেতা আকিফ

 

২১ মার্চ ২০২২, ০৭ চৈত্র ১৪২৮, ১৭ শাবান ১৪৪৩, নয়া দিগন্ত

ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে সংগঠন থেকে বহিষ্কার হয়েছেন ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আকিফ আহমেদ।

গত ২০ মার্চ দায়ের অভিযোগ ও অভিযুক্তের স্বীকারোক্তিমূলক পদত্যাগপত্রের ভিত্তিতে সোমবার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এ বহিষ্কারাদেশ দেন সংগঠনটির উর্ধ্বতন নেতারা।

অভিযুক্তের বিরুদ্ধে লিখিত বহিষ্কারাদেশে অভিযোগ এবং স্বীকারোক্তি বিবেচনায় ছাত্র ইউনিয়ন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের ৩৪তম কার্যনির্বাহী পরিষদের দ্বিতীয় সভায় গঠনতন্ত্রের ধারা মোতাবেক অভিযুক্ত আকিফ আহমেদকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সিদ্ধান্ত মোতাবেক, সংগঠনের যেকোনো স্তরের যেকোনো কার্যক্রমের সাথে অভিযুক্ত আকিফ আহমেদের সংশ্লিষ্টতা অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

অভিযোগকারী আগামীতে যেকোনো (আইনি) পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চাইলে ছাত্র ইউনিয়ন সর্বোচ্চ সহযোগিতামূলক আচরণ প্রদর্শন করবে বলেও জানানো হয়।

বিষয়টি সম্পর্কে অভিযুক্ত আকিফ আহমেদ বলেন, এক বছর আগে তার সাথে আমার প্রেমের সম্পর্ক থাকাকালে এমন কিছু হয়েছিল। পরবর্তীতে আমরা আবার রিলেশনে যাই এবং দু’জনের মাঝে বনাবনি না হওয়ায় ২ মাস আগে আবার সম্পর্কচ্ছেদ হয়। এখন তার অন্য একটা ছেলের সাথে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে যার সাথে আমার ছাত্র ইউনিয়ন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদের বিরোধ রয়েছে। তাই বলা যায়, ছাত্র ইউনিয়নে আমার দায়িত্ব গ্রহণের এ সময়ে এক বছরের পুরনো বিষয়ে অভিযোগ আনার পেছনে কোনো তৃতীয় ব্যক্তির স্বার্থ জড়িত থাকতে পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখলে অনেক কিছুই বের হয়ে আসবে।



এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক আদনান বলেন, এক বছরের পুরনো হোক আর ১০ বছর হোক, ভুক্তভোগী যেকোনো সময় চাইলে অভিযোগ করতে পারে। এখন এ বিষয়ে আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ এসেছে এবং একইসাথে অভিযুক্তের লিখিত পদত্যাগপত্রও এসেছে। এ দু’য়ের সমন্বয়ে বিষয়টা পরিষ্কার হয়ে ওঠে যে, অভিযুক্ত আসলেই অপরাধী। তাই সাংগঠনিক জায়গা থেকে তাকে বহিষ্কার করা ছাড়া কোনো উপায় ছিল না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি শিমুল কুম্বকার বলেন, আমরা একটা অভিযোগ পেয়েছি এবং অভিযুক্ত তার দায় স্বীকার করেছেন। অভিযোগ ও অভিযুক্তর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আমরা সাংগঠনিক প্রক্রিয়ায় তাকে বহিষ্কার করেছি।

এক বছরের পুরনো ঘটনা টেনে এনে অন্য কেউ এখানে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হ্যাঁ, এখানে এমন কিছু থাকতেই পারে। তবে অভিযুক্তের স্বীকারোক্তির কারণে আমাদের সেই বিষয়ে তদন্তের পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। ফলে আমরা আমাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে বাধ্য হই।

উল্লেখ্য যে  :  আকিফ আহমেদ মেহেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ অরুন এর ভাই মেহেরপুর সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এবং মেহেরপুর সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মারুফ হোসেন বিজনের একমাত্র ছেলে

Thursday, March 10, 2022

মেহেরপুরে যুবলীগ নেতা বিপুল হত্যা মামলার সব আসামি খালাস

 


১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২, 

মেহেরপুর পৌরসভার কাউন্সিলর ও জেলা যুবলীগ নেতা আবদুল্লাহ আল মামুন বিপুল হত্যা মামলার সব আসামিকেই বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মেহেরপুর জেলা ও দায়রা জজ মো. ওয়ালিউল ইসলাম এ আদেশ দেন।

খালাসপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি সাজ্জাদুল আনাম, যুবলীগ নেতা ইয়ানুস শেখ, মাহফুজ আলী, আফজাল হোসেন ও বাদশা মিয়া।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২৮ জানুয়ারি সোমবার দিবাগত রাত ১০টার দিকে মেহেরপুর শহরের কাসারি পাড়ায় জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক (সাবেক সহপ্রচার সম্পাদক) শহিদুল ইসলামের বাড়িতে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে জেলা যুবলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৎকালীন কাউন্সিলর আবদুল্লাহ আল মামুন বিপুল যোগ দেন। অনুষ্ঠান চলাকালে অজ্ঞাতনামা চার-পাঁচজন অস্ত্রধারী ব্যক্তি সেখানে প্রবেশ করে তাঁকে লক্ষ্য করে পরপর তিনটি গুলি করেন। এতে তাঁর মাথা ও বুকে গুলি লাগে। তাঁকে উদ্ধার করে জেনারেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

অনুষ্ঠান চলাকালে অজ্ঞাতনামা চার-পাঁচজন অস্ত্রধারী ব্যক্তি এসে কাউন্সিলর আবদুল্লাহ আল মামুনকে লক্ষ্য করে পরপর তিনটি গুলি করেন। এতে তাঁর মাথা ও বুকে গুলি লাগে।


এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিপুলের স্ত্রী বিলকিস আরা বেলী বাদী হয়ে দুদিন পর জেলা মেহেরপুর যুবলীগের তৎকালীন সভাপতি সাজ্জাদুল অনাম, অর্থ সম্পাদক ও বর্তমান পৌর মেয়র মাহাফুজুর রহমান, শহিদুল ইসলামসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে পৌর মেয়র মাহফুজুর রহমান ও তাঁর শ্যালক আরিফুর রহমান, জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি সাজ্জাদুল আনামকে অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়া হয়। পরে মামলা সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হলে শহিদুল ইসলাম, তাঁর ভাই বাদশা, ইয়ানুস, আফজাল, মাহফুজ ও জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি সাজ্জাদুল আনামকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন পল্লব ভট্টাচার্য। আসামিপক্ষে ইয়ারুল ইসলাম, কামরুল ইসলামসহ একাধিক আইনজীবী মামলা পরিচালনা করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী ইয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা রায়ে সন্তুষ্ট।’ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পল্লব ভট্টাচার্য বলেন, ‘বিচারক অভিযোগপত্রভুক্ত ছয় আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন। আমরা রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পেলে পরবর্তীকালে আপিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’ 

Friday, September 24, 2021

বিশ্বখ্যাত কার্ডিওলজিস্ট শহীদ অধ্যাপক ডাঃ ফজলে রাব্বি।

লেখক : Dr. Zafrullah Chowdhury  স্যার এর ফেসবুক পোস্ট থেকে নেওয়া 

এই ফজলে রাব্বি তিনি,  সমগ্র পাকিস্তানকে সাত বার আটি দরে বিক্রি করলেও তাঁর মস্তিষ্কের দাম  উঠবে না৷ সেই ফজলে রাব্বি তিনি যিনি হতে পারতেন বাংলাদেশের  প্রথম  নোবেলজয়ী চিকিৎসা বিজ্ঞানী।

তিনি ছিলেন ঢাকা মেডিকেলের এমবিবিএস  চূড়ান্ত পরীক্ষায়  শীর্ষস্থান অধিকারী ছাত্র।   মাত্র ৩২ বছর বয়সে  ১৯৬৪ সালে  মেডিসিনের উপর তাঁর বিখ্যাত  কেস স্টাডি   'A case of congenital hyperbilirubinaemia ( DUBIN-JOHNSON SYNDROME) in Pakistan' প্রকাশিত হয়েছিলে  বিশ্বখ্যাত  গবেষণা জার্নাল 'জার্নাল অব ট্রপিক্যাল  মেডিসিন হাইজিন'  এ। 

মাত্র ৩৮ বছর বয়সে ১৯৭০ সালে তাঁর  বিশ্বখ্যাত  গবেষণা Spirometry in tropical pulmonary eosinophilia প্রকাশিত হয়েছিলো  ব্রিটিশ জার্নাল অফ দা ডিসিস অফ চেস্ট  ও ল্যান্সেট এ। 

১৯৭০ সালে মাত্র ৩৮ বছর বয়সেই ডাঃ ফজলে রাব্বি মনোনীত হয়েছিলেন পাকিস্তানের সেরা অধ্যাপক পুরস্কারের জন্য। কিন্তু  তাঁর আত্মায় ছিলো বাংলার অসহায়র্ত মানুষ। ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করেছিলেন তিনি সেই পুরুষ্কার। 

মাত্র ৩৯ বছর বয়সী ডা. মোহাম্মদ ফজলে রাব্বি ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রফেসর অব ক্লিনিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড কার্ডিওলজিস্ট। আজকের দিনে কল্পনা করা যায়? 

মুক্তিযুদ্ধের পুরোটা সময় তিনি আহত মানুষদের  সেবা দিয়েছেন মেডিকেলে বসে। বেশ কয়েকদফা নিজের সাধ্যের চেয়ে বেশী ঔষধ আর অর্থ সহায়তা দিয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য। আহত মুক্তিযোদ্ধাদের  পরিচয় গোপন রেখে দিয়েছিলেন চিকিৎসাও। 

মুক্তিযুদ্ধের  ১৩ ও ১৪ ডিসেম্বর ডাঃ ফজলে রাব্বির স্ত্রী জাহানারা রাব্বী  একই স্বপ্ন দুবার  দেখলেন। স্বপ্নটা এমন  একটা সাদা সুতির চাদর গায়ে তিনি তিন ছেলেমেয়েকে নিয়ে জিয়ারত করছেন এমন একটা জায়গায়, যেখানে চারটা কালো থামের মাঝখানে সাদা চাদরে ঘেরা কী যেন।

১৫ই ডিসেম্বর সকালে জাহানারা রাব্বী এ স্বপ্নের কথা বললেন ফজলে রাব্বিকে। রাব্বি বললেন, ‘তুমি বোধ হয় আমার কবর দেখেছ’। ভয় পেলেন জাহানারা রাব্বি। টেলিফোন টেনে পরিচিত অধ্যাপকদের বাড়িতে ফোন করতে বললেন।

ফজলে রাব্বি ফোন করলেন, কিন্তু কাউকেও লাইনে পাওয়া যাচ্ছেনা। 

আকাশে তখন  ভারতীয় যুদ্ধবিমান। রকেট, শেলের শব্দে কান ঝালাপালা। সকাল ১০টায় ২ ঘন্টার জন্য  কারফিউ উঠলো।  ফজলে রাব্বি  স্ত্রীকে  বললেন, 'একজন অবাঙালি রোগী দেখতে যাবো পুরান ঢাকায়।'  যেতে মানা করলেন জাহানারা রাব্বি। 

ফজলে রাব্বি কথার এক প্রসঙ্গে বলেছিলেন ‘ভুলে যেয়ো না, ওরাও মানুষ।’

সেদিন তিনি ফিরেছিলেন কারফিউ শুরু হওয়ার আগেই। 

দুপুরের খাবার ছিলো আগের দিনের বাসি তরকারি। কিন্তু ফজলে রাব্বি উল্টো বলেছিলেন, ‘আজকের দিনে এত ভালো খাবার খেলাম।’

জাহানারা রাব্বি দেখলেন এখানে  থাকা বিপজ্জনক। তিনি বললেন, চলো চলে যাই।  ফজলে রাব্বি বলেছিলেন  'আচ্ছা, দুপুরটা একটু গড়িয়ে নিই।’

কিছুক্ষণ পর বাবুর্চি এসে বললো ‘সাহেব, বাড়ি ঘিরে ফেলেছে ওরা।’

বাইরে তখন কাদালেপা মাইক্রোবাস দাঁড়িয়ে। মাইক্রোবাসের সামনে  রাজাকার, আলবদর আর হানাদারেরা।

খুব হালকা স্বরে ফজলে রাব্বি জাহানারা রাব্বিকে বলেছিলেন, ‘আমাকে নিতে এসেছে।’ এরপর

দারোয়ানকে গেট খুলে দিতে বলেছিলেন তিনি। যখন মাইক্রোবাসে তিনি উঠলেন তখন সময় ঘড়িতে বিকেল চারটা।

১৮ই ডিসেম্বর ডাঃ ফজলে রাব্বির লাশটি পাওয়া গিয়েছিলো  রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে। দুই চোখ উপড়ানো। সমগ্র  শরীরে জুড়ে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে আঘাতের চিহ্ন।  দু হাত পিছনে গামছা দিয়ে বাঁধা। লুঙ্গিটা উরুর উপরে আটকানো। তাঁর হৃদপিন্ড আর কলিজাটা ছিঁড়ে  ফেলেছে হানাদার  ও নিকৃষ্ট  আলবদরেরা।

এই সেই ডাঃ ফজলে রাব্বি, যাঁর  গোটা হৃদয় জুড়ে ছিলো বাংলাদেশ  আর অসহায়র্ত  মানুষ।  যার হৃদয় জুড়ে ছিলো স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন। হানাদার ও আল বদরের ঘৃণ্য  নরপিশাচেরা  সেই হৃদয়কে ছিঁড়ে ফেললেই কি সমগ্র  বাংলার মানুষের হৃদয় থেকে কি তাঁকে  বিছিন্ন করা যায়। যায়না। হাজার বছর পরেও ডাঃ ফজলে রাব্বি  থাকবেন আমাদের প্রাণে, হৃদয়ের গহীনে।  

আজ কিংবদন্তি চিকিৎসক ও বুদ্ধিজীবি শহীদ অধ্যাপক ডাঃ ফজলে রাব্বির জন্মদিন।  জন্মদিনে নতচিত্তে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করি এই কিংবদন্তি চিকিৎসককে। আমাদের ফজলে রাব্বিকে আল্লাহ যেন বেহেশত নসীব করেন - আমীন

আরো বিস্তারিত পড়তে  

Wednesday, May 19, 2021

ইউপি সোহেল রানা গাজাসহ হাতে নাতে ধরা ও গণধোলাই (ভিডিও)



 ০১ নং কুতুবপুর ইউনিয়নের ০৮ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সোহেল রানা মেম্বার পিতা মোঃ সাখাওয়াত বিশ^াস গাজাসহ হাত নাতে ধরা।
বিগত দুই দিন আগে কুতুবপুর ইউনিয়নের ০৮ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সোহেল রানা গাজাসহ ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা ০১ (এক) কেজি পরিমান গাজাসহ গ্রামবাসীর নিকট হাতে নাতে ধরা ও গণধোলাই এর স্বীকার হয়। সরজমিনে তার গ্রাম পরিদর্শন করে জানা যায় যে তিনি এই ব্যবসা অনেক দিন ধরে চলিয়ে আসছিলেন। এবং ইতিপূর্বে তার নামে মানব পাচার ও আদম ব্যবসার জন্য মেহেরপুর সদর থানায় কয় একটা মামলার আসামী। ইউপি সোহেল রানা জেলা সৈনিক লীগের সভাপতির দায়িত্বে আছেন।

Thursday, February 18, 2021

দেশের প্রথম শহীদ বুদ্ধিজীবি

শহীদ শামসুজ্জোহা স্যার, একজন ইতিহাস স্রষ্টা। দেশের প্রথম শহীদ বুদ্ধিজীবি।  

জানুয়ারি ৬৯ এ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ সারা দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট পালন করে। এই ধর্মঘটে পুলিশ বাধা দেয় এবং ছাত্রদের ওপর চরম নির্যাতন চালায়। এর প্রতিবাদে ২০ জানুয়ারি ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে রাজপথে নেমে আসে। ছাত্রদের রাজপথের এই মিছিলে গুলি চলে। পুলিশের গুলিতে ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান ( শহীদ আসাদ ) আহত হন এবং হাসপাতালে নেয়ার পথেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুতে সমগ্র দেশে সূচিত হয় দুর্বার আন্দোলন, স্বাধীনতার আন্দোলন ।

এর মধ্যে ১৫ ফেব্রুয়ারি আগরতলার মামলার আসামি সার্জেন্ট জহুরুল হককে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দি অবস্থায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী গুলি করে হত্যা করে।

সার্জেন্ট জহুরুল হক হত্যার প্রতিবাদে সারা দেশের মত রাজশাহীর মানুষও ক্ষোভে ফেটে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য স্থানীয় প্রশাসন রাজশাহী শহরে ১৪৪ ধারা জারি করে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষার্থী সেদিন ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে রাজপথে নেমে পড়ে। এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে শুরু হয় সংঘর্ষ। এই সংঘর্ষে বেশ কিছু ছাত্র আহত হন। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে খবরটি প্রচারিত হলে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। জোহা স্যার খবরটি পাওয়ামাত্র এস এম হলের প্রভোস্ট ড. মাযহারুল ইসলাম স্যারকে সঙ্গে নিয়ে গাড়িতে করে তাত্ক্ষণিক ঘটনাস্থলে চলে আসেন। আহত ছাত্রদের ভ্যানে তুলে চিকিৎসার জন্য মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেদিন আহত ছাত্রদের রক্তে তার জামা ভিজে গিয়েছিল। তাদের চিকিৎসার  ব্যবস্থা করে তিনি বলেছিলেন,

"কাল আবার এসে তোমাদের দেখে যাব"।  

ঐদিন সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে চলছিল একুশের অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তিনি তাঁর শার্টে ছাত্রদের রক্তের দাগ দেখিয়ে  বলিষ্ঠ কণ্ঠে বলেন,

"আহত ছাত্রদের রক্তের স্পর্শে আজ আমি গৌরবান্বিত। এরপর থেকে শুধু ছাত্রদের রক্ত নয় প্রয়োজনবোধে আমাদেরও রক্ত দিতে হবে। এরপর আর যদি কোনো গুলি করা হয়, কোনো ছাত্রের গায়ে লাগার আগে যেন  সেই গুলি আমার বুকে এসে লাগে।" 

১৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯। আনুমানিক বেলা তখন সাড়ে ৯টা, ছাত্রদের সঙ্গে পাকিস্তানি  সৈন‍্যদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিয়ে এক উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তাঁর প্রিয় ছাত্রদের রক্ষায় জোহা স‍্যার আবার ছুটে এলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের কাছে, নাটোর রোডের ওপারে যেখানে প্রতিবাদী ছাত্রদের গুলি করার জন্য পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর জোয়ানরা রাইফেল তাক করে ছিল।

ড. শামসুজ্জোহা ( জোহা স‍্যার ) তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর। তিনি কর্মরত সামরিক কর্মকর্তাকে বলেন, 

"প্লিজ ডোন্ট ফায়ার। আমার ছেলেরা এখনই ক্যাম্পাসের মধ্যে ফিরে যাবে।"

ছাত্ররা তখন তাঁদের প্রিয় স্যারের আদেশে ক্যাম্পাসে ফিরে যাচ্ছে, এমন সময় হঠাত্ গুলি। কেঁপে উঠল সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয়। পিছনে ফিরে  তাকাতেই সবাই দেখল তাদের  স্যার মাটিতে পড়ে চিৎকার  করছেন -

"বর্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আমাকে  গুলি করেছে।"

যে স্যার মাত্র গতকাল  তার ছাত্রদের  কথা দিয়েছিলেন, তিনি তার আহত ছাত্রদের আজ হাসপাতালে দেখতে যাবেন,  তিনি তার সেই কথা রাখতে পারেন নি। তবে দ্বিতীয় গুলিটা যেন তার প্রিয় ছাত্রের গায়ে না লেগে তার গায়ে লাগে, সেই  কথাটা কিন্তু তিনি ঠিকই রাখতে পেরেছিলেন। দেশের জন‍্য জীবন দিয়ে তিনি স্বাধীতার অনির্বাণ শিখায় রক্তাক্ত পলাশের নৈবেদ‍্য দিয়ে গেলেন।


এই দেশ, লাল সবুজের এই পতাকা, এই স্বাধীনতা - এ দেশের ছাত্র শিক্ষক  কৃষাণ মজুর শ্রমিক সর্বস্তরের জনগণের ঘামে রক্তের বিনিময়ে অর্জিত। আমরা সশ্রদ্ধ সালাম জানাই সেই সব মহান  শহীদদের। বঞ্চনা, অশিক্ষা, অপসংস্কৃতি, অবিচার ও গনতন্ত্রহীনতায় এই  স্বাধীনতা যেন কোনোভাবে কলুষিত  বা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা দেখা এবং রক্ষার দায়িত্বও দেশের আপামর জনগণ এবং বর্তমান প্রজন্মেরই।

শহীদ শামসুজ্জোহা হলের একজন প্রাক্তন আবাসিক ছাত্র হিসাবে আজকের এই স্মরণীয় ঐতিহাসিক দিনে নিজেকে গৌরান্বিত বোধ করছি। মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা আমাদের প্রিয় জোহা স্যারকে আপনি বেহেস্তের সর্বোচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত করুন।

লেখক : জিয়াউর রহমান খান লিটন , সাবেক যুগ্ম সচিব, শিল্প মন্ত্রণালয় 

Saturday, January 16, 2021

গাংনী পৌরসভা নির্বাচন- ২০২১

গাংনী প্রতিনিধি : ১৬ ই জানুয়ারী ২০২১ 
মেহেরপুরের গাংনী পৌরসভা নির্বাচনে ৯ হাজার ৪শ’৬৭ ভোট পেয়ে আওয়ামীলীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আহম্মেদ আলী বেসরকারী ভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান মেয়র সতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল ইসলাম ২ হাজার ৬শ’৫১,বিএনপির প্রার্থী আসাদুজ্জামান বাবলু ৪শ’৮৮,ইসলামী আন্দোলনের আবু হুরাইরা ২শ’৩০ ও সতন্ত্র আনারুল ইসলাম ৫৭ ভোট পেয়ে পরাজিত হন।

পৌরসভার মোট ভোটার ২০ হাজার ৩৫৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯ হাজার ৭৬০ ও নারী ভোটার রয়েছে ১০ হাজার ৫৯৭ জন। নির্বাচিত কাউন্সিলর প্রার্থীরা হলেন,১ নং ওয়ার্ডে আলমগীর হোসেন,২ নং ওয়ার্ডে মিজানুর রহমান,৩ নং ওয়ার্ডে সামিউল ইসলাম,৪ নং ওয়ার্ডে আছেল উদ্দীন,৫ নং ওয়ার্ডে আতিয়ার রহমান,৬ নং ওয়ার্ডে নাসির উদ্দীন,৭ নং ওয়ার্ডে মকসেদ আলী,৮ নং ওয়ার্ডে হাফিজুল ইসলাম,৯ নং ওয়ার্ডে রাশিদুল ইসলাম। এবং সংরক্ষিত ১২৩ নং ফিরোজা খাতুন, ৪৫৬ নং ওয়ার্ডে ঝর্না খাতুন ও ৭৮৯ নং ওয়ার্ডে সাজেদা খাতুন নির্বাচিত হন। নির্বাচনে ৫জন মেয়র সহ ৫২জন প্রার্থী এ নির্বাচনে অংশ নেয়। শনিবার সন্ধ্যায় বিভিন্ন কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

Sunday, November 8, 2020

শহীদ মুফতী ও এক গুচ্ছ রুমাল

বামদিকের পারিবারিক ছবিতে পেছনের সারির মাঝখানের জন মুফতি মোহাম্মদ কাসেদ। ডান দিকে বন্ধুদের সংগ্রহে থাকা শহীদ মুফতির ছবি।

 মুফতীর ছোট বোন সুলতানা অনেকগুলো রুমাল খুব যত্নে ভাঁজ করে সুটকেসে রাখছিল। ময়মনসিংহ জেলা স্কুল ছেড়ে মুফতী চলে যাচ্ছে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজে। তালিকা ধরে সুটকেস গোছানো হচ্ছে। ব্যবহার্য প্রতিটি জিনিসের সংখ্যা নির্দিষ্ট করা আছে। 

রুমালের সংখ্যাই বেশি। আমি এসেছি নৌমহলে, মুফতীর বাসায়। আগামীকাল সে চলে যাবে। তারপর কেটে গেছে ষাট বছরের কাছাকাছি। বহুদিন ধরে ভেবেছি মুফতীকে নিয়ে লিখবো। আমার জেলা স্কুলের সহপাঠী বর্তমানে নিউ জার্সির বাসিন্দা আমিনুর রশিদ পিন্টু দিনকয় আগে ফেইসবুকে মুফতীর ছোটবেলার একটা ছবি পাঠিয়েছে। যে লেখা হয়ে উঠছিল না, ছবিখানা দেখে মুফতীকে নিয়ে সে লেখা লিখতে বসেছি। কেন জানি না ভাইয়ের জন্য ছোট বোন  রুমাল গুছিয়ে সুটকেসে রাখছে – এই দৃশ্যটি প্রথমে মনে এল।

১৯৬১ সাল। আমার স্টেশন মাস্টার বাবা জামালপুরের কাছে বাউশি স্টেশন থেকে বদলি হয়ে ময়মনসিংহ রোড স্টেশনে এসেছেন। এর আগে বিভিন্ন স্টেশনে গ্রামের স্কুলে পড়েছি। এবারে আমাকে ভর্তি করা হয়েছে ময়মনসিংহ শহরের নামকরা জেলা স্কুলে। ক্লাস সিক্সে। বছরের মাঝখানে ভর্তি হয়েছি। লাল ইটের বিশাল ভবনে সারি সারি ক্লাস। হেড স্যারের অফিস থেকে একজন দপ্তরি দেখতে ছোটখাট নতুন এক ছাত্রকে সিক্স বি ক্লাসে নিয়ে এলো। স্যার এবং সারা ক্লাসের দৃষ্টি এই নবাগতের দিকে। উচ্চতায় খাট বলেই হয়তো স্যার আমাকে একেবারে প্রথম সারিতে বসতে বললেন। সেই প্রথম দিনেই পরিচয় ও বন্ধুত্ব হয়ে গেল মুফতীর সাথে। বেঞ্চে তার পাশেই আমি বসেছিলাম।  

অল্প কয়দিনেই জমিয়ে বন্ধুত্ব। আমি চুপচাপ প্রকৃতির। মুফতী সপ্রতিভ। ক্লাসের বাইরের বই প্রচুর পড়ে। “গোয়েন্দা গল্প  বা অ্যাডভেঞ্চার– এসব পড়?” মুফতীর প্রশ্নের উত্তরে জানাই, আমাদের বাসায় মোহন সিরিজের বই আছে। শুনেতো মুফতী উত্তেজিত। “আজই স্কুল শেষে তোমার সাথে বাসায় গিয়ে বই নিয়ে আসবো।” 

বললাম, আমার বাসাতো তিন মাইল দূরে, হেঁটে যেতে হবে। কোনও পরোয়া নেই মুফতীর। রেললাইন ধরে হেঁটে আমি স্কুলে আসা-যাওয়া করি। আমার প্রতিদিন ছয় মাইল হাঁটার সংবাদ মুফতী জানে। সেদিনই মুফতী চলল আমার সাথে। শীতের বিকেলে বাসায় পৌঁছাতে প্রায় সন্ধ্যা। মোহন সিরিজের একটি বই নিয়ে মুফতী ফিরে গেল একা নৌমহলে তাদের বাড়ির উদ্দেশ্যে।

ময়মনসিংহ শহরের পূর্ব পাশ ঘেঁষে বয়ে গেছে ব্রহ্মপুত্র নদ। শনিবার স্কুল আগে ছুটি হয়। মুফতী ও আমি চলে যাই ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে। নদীর পানি টলটলে স্বচ্ছ। শরতে কাশফুলে ঢাকা চর।  নদী পাড়ের বেঞ্চে বসে থাকি আমরা। শুভ্র কাশের রূপ দেখি। মুফতী বললো, “ওপারে শম্ভুগঞ্জে আমার এক আত্মীয়ের বাড়ি আছে। শীতে নদীর পানি এত কমে যায়, হেঁটেই পার হওয়া যায়। আমরা একবার সে বাড়িতে যাব।”

তারপর শীত এলো। এক বিকেলে স্কুল শেষে আমরা দু’জন নদী পার হলাম। আমরা তখন হাফপ্যান্ট পরতাম। শহরের ছেলেরা জুতো পড়লেও আমি খালি পায়েই স্কুলে আসতাম। অন্যরা তা তেমন নজরও করতো না। তো হাফপ্যান্ট ও খালি পা থাকায় নদী পার হতে কোনও ঝামেলা হলো না। ছোট একটু জায়গা সাঁতরাতে হলো। মুফতীর   আক্ষেপ কেন আজ জুতো পরে এলো! হাতে নিতে হলো জুতো। শম্ভুগঞ্জ থেকে শহরে ফিরতে সন্ধ্যা পার। তারপর আরো তিন মাইল হেঁটে ময়মনসিংহ রোড স্টেশনের বাসায় পৌঁছাতে বেশ রাত। সবাই চিন্তায় পড়েছিলেন। সব বৃত্তান্ত শুনে কোনও বকাঝকা করলেন না আম্মা-আব্বা। ওই বয়সে বড় একটা অ্যাডভেঞ্চার করেছি, এমনটা ভেবে তারা হয়তো ভেতরে ভেতরে খুশিই হয়েছিলেন।

জেলা স্কুলের মাঠে অ্যাসেম্বলি হত। কিছুটা শরীর চর্চাও। তারপর মার্চ করে আমরা ক্লাসে যেতাম। গুরুত্বপূর্ণ কিছু জানাবার থাকলে আমাদের হেডমাস্টার ফসিহ স্যার অ্যাসেম্বলিতে তা জানাতেন। একদিন বজ্রপাতের মত তেমন একটা ঘোষনা আমরা শুনলাম স্যারের কণ্ঠে। আমাদের ক্লাসের কয়েকজন ছাত্রকে টিসি দেওয়া হবে। নাম ডেকে অ্যাসেম্বলির সামনে জনা ছয়েককে দাঁড়াতে বলা হলো।  

স্যার বললেন, “এরা সবাই ভাল ছাত্র, কিন্তু গুরুতর শৃঙ্খলা ভঙ্গের সাথে এরা যুক্ত।” স্যার আরো জানালেন, দুটো গোপন প্রতিদ্বন্দ্বী দল এরা গঠন করেছে। ‘বজ্রমুষ্টি’ ও ‘ব্ল্যাক টাইগার’। 

বহু বছর আগে ময়মনসিংহ শহরের এক প্রান্তে  নন্দীবাড়ি ছিল সমৃদ্ধ জনপদ। সেসব গত হয়েছে বহু আগে। এখন নন্দী পরিবারের বিশাল অট্টালিকা, বাগান  সবই  ঘন জঙ্গলে ঢাকা। ওই পোড়োবাড়িতে দিনের বেলায় যেতেও মানুষ ভয় পায়।  নন্দীবাড়ির জঙ্গলে ‘বজ্রমুষ্টি’ গোপনে আস্তানা গেড়েছে। ‘ব্ল্যাক টাইগার’ আরেক জায়গায়।  পরষ্পরকে হুমকি দিয়ে পাঠানো এদের গোপন চিঠি স্কুল কর্তৃপক্ষের হাতে এসেছে। অভিভাবকদের এ বিষয়ে জানানো হয়েছে। গভীর বিস্ময়ে জানলাম- আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু মুফতী ‘বজ্রমুষ্টি’ দলের নেতা। চকিতে মনে পড়লো স্কুলে ভর্তির পরপরই মুফতীর অ্যাডভেঞ্চার কাহিনীর প্রতি গভীর নেশার কথা। আসা-যাওয়া মিলিয়ে ছয় মাইল পথ হেঁটে আমার বাসা থেকে মোহন সিরিজের বই সংগ্রহের কথা। শেষ পর্যন্ত অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে এই খুদে রবিনহুডদের আর টিসি দেয়নি স্কুল কর্তৃপক্ষ। 

মুফতীর পক্ষ থেকে অবশ্য কোনও মুচলেকা এলো না। স্কুলে আসাও বন্ধ করলো সে। বাসায় গিয়ে জানলাম জেলা স্কুলে সে আর পড়বে না। ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজে ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার জন্য সে বাসায় থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছে। সে পরীক্ষায় পাশ করে মুফতী চলে গেল ক্যাডেট কলেজে। ক্লাস সেভেনে। মনের গহীনে তার কি কোন স্বপ্ন ছিল? জেলা স্কুলে শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছে সে। এবারে ক্যাডেট কলেজের কঠিন শৃঙ্খলায় নিজেকে তৈরি করবে সামনে অনেক বড় কোনও অ্যাডভেঞ্চারে অংশ নেওয়ার জন্যে। সে মাহেন্দ্রক্ষণ এসেছিল ১৯৭১ সালে। সে সম্পর্কে বলবার আগে মুফতী ও তার পরিবার নিয়ে দুটো কথা বলবো। তার আগে শুধু জানাই যে ক্লাস সিক্সের রবিনহুডদের সবাই মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিল।

আমার সে সময়কার আরেক সহপাঠী ইঞ্জিনিয়ার আমিনুল ইসলাম। তার স্মরণশক্তি প্রখর। ষাট বছর আগের ঘটনা, স্থান, বিভিন্ন জনের নাম তার পরিষ্কার মনে আছে। মুফতীর সাথেতো আমার বন্ধুত্ব বেশিদিনের নয়। কিন্তু আমিনুল ময়মনসিংহ শহরের বাসিন্দা হওয়াতে মুফতী ও তার পরিবারের সাথে গভীরভাবে যুক্ত। তার শরণাপন্ন হই, মুফতী সম্পর্কে ওইসব কথা জানতে যা আমার জানা নেই। 

মুফতীর বাবা মোহাম্মদ ওয়াহীদ ছিলেন ময়মনসিংহ পৌরসভার সচিব। নৌমহলে তার নিজের বাড়ি। ছয় পুত্র ও চার কন্যার মধ্যে প্রথম পুত্র ছোট বেলায় মারা যায়। তারপর কন্যা। আমরা ডাকতাম সাকী আপা বলে। তারপরেই মুফতি। আমিনুল বলছিল বাবা ওয়াহীদ সাহেবের কথা। স্বল্পবাক এই মানুষটি অবসরে গভীর মনোযোগে বই পড়তেন। বই পড়ার এই অভ্যাসটি পেয়েছিল মুফতি। তবে পাঠ্য বইয়ের বাইরের বই পড়ার নেশা ছিল তার। ওয়াহীদ সাহেব তাতে আপত্তি করতেন না। ছেলে-মেয়েরা কে কী পড়ছে তা নিয়ে মাথাও ঘামাতেন না। তবে তাদের ইংরেজি শেখাবার একটা চেষ্টা তার ছিল। ঘরে রাখা হতো ইংরেজি অবজারভার পত্রিকা। ছেলে-মেয়েরা পড়াশুনা করছে। বাবা বললেন, “মা শাহানা আজকের প্রধান খবরগুলো পড়ে শোনাওতো।” আরেকটি হবি ছিল ওয়াহীদ সাহেবের। ডায়েরি লিখতেন তিনি। নিয়মিত ডায়রি লেখার জন্য মনের একটা শৃঙ্খলা দরকার হয়। ভাবনারও প্রয়োজন পড়ে। মুফতী ছোটবেলা থেকেই বাবার এই বৈশিষ্ট্যগুলো পেয়েছিল। বেহালা বাজানো ও দাবা খেলার প্রতি ঝোঁক তার ছেলে বেলা থেকেই। দুটোর জন্যেই প্রয়োজন ছিল শৃঙ্খলা, চিন্তার গভীরতা ও নিষ্ঠা। আমিনুল বলছিল সেসবের কথা।


নৌমহলে মুফতিদের বাসার কাছেই সমীর চন্দ্র চন্দের বাসা। সবাই কটন-দা বলে ডাকে। সঙ্গীত নিয়েই তিনি ও তার গোটা পরিবার। বেহালা ও গিটার শেখান তিনি। মুফতী ও তার ছোট ভাই হাদীর বেহালায় হাতেখড়ি তার কাছেই। দাবা কোথায় শিখলো? আমিনুল বলতে পারেনি। বললো, “হয়তো নিজে নিজেই শিখছে।” তবে মজার কথাও একটা জানালো আমিনুল। ময়মনসিংহ শহরের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মির্জা আজাদ বখত ওপার বাংলা থেকে এসে এ শহরে বসতি করেছেন। তিনি দাবা খেলতেন মুফতীর সাথে। কখনো মুফতীকে হারাতে পারতেন না। তাতে তার কোন খেদ ছিল না। বলতেন, “বুঝলে মুফতি, কাঠ ঘষলেও ধার হয়, কিন্তু ইস্পাতের মত নয় কখনো। আমি কাঠ আর তুমি হচ্ছো ইস্পাত।” 

মুফতীর বাবা ময়মনসিংহ শহরে ১৯৫৫ সালে একটি আধুনিক কাঠের আসবাবপত্র তৈরির কারখানা শুরু করেছিলেন। সেই কারখানায় মুফতী দাবা খেলার বিশাল সব গুটি তৈরি করেছিল। বাসার মেঝেতে দাবার ছক কেটে বড় বড় দাবার গুটি দিয়ে ভাই-বোন বন্ধু-বান্ধব মিলে দাবা খেলার আসর বসাতো মুফতি। নিজের চোখ বেঁধে মুফতী অনেকের বিরুদ্ধে একা খেলতো। কেউ জিততে পারতো না। ফোনে কথা হয় ময়মনসিংহের নজিব আশরাফ হোসেনের সাথে। মুফতীর  চাচার ছেলে। মুফতীর প্রতি অন্তপ্রাণ নজিব বলছিল, “মুফতী ভাই নিজের চোখ বেঁধে এক সাথে ৭ জন দাবাড়ুকে হারিয়েছিলেন। এমন কৃতিত্ব সে সময়ে আর কারও ছিল না।” 

মুফতীর সব কাজ একা একা। এমনি একদিন থ্রি নট থ্রি রাইফেল হাতে একদম একা মুফতী চলে গিয়েছিল ঘাতক পাকিস্তানি বাহিনীর হাত থেকে বৃদ্ধ সামাদ দফতরিকে বাঁচাতে। ১৯৭১-এর ১৪ জুন তারিখে। সে বিষয়ে বলবো পরে।  

কলেজ শেষ করে আমি ভর্তি হয়েছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োক্যামেস্ট্রি বিভাগে। মুফতী ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ে। মুফতী মোহাম্মদ কাসেদ। একের পর এক বিভিন্ন টুর্নামেন্টে বিজয়ী হয়ে চলেছে ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মুফতি। জেলা স্কুলে আমাদের আরেক সহপাঠী কামরুল। ক্লাসে তৃতীয়। নৌমহলে মুফতীর বাসার পাশেই তার বাসা। পরে ইঞ্জিনিয়ারিং-এ মেকানিক্যালে মুফতীর সাথে পড়েছে। বুয়েটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত কৃতি অধ্যাপক মো. কামরুল ইসলামের সাথে ফোনে কথা হয়। “মুফতী থাকতো কায়দে আজম হলের (বর্তমান তিতুমির হল) ২০৭ নম্বর (উত্তর) কক্ষে। দাবায় এত সময় দিত যে তৃতীয় বর্ষে তার ক্লাস উপস্থিতি কম থাকায় বিভাগীয় প্রধান মাদ্রাজি অধ্যাপক ভি জি দেসা তাকে চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নিতে দেবেন না বলে জানিয়ে দিলেন। তৎকালীন পাকিস্তান শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্রের (বর্তমান বিটাক) পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ছিলেন অধ্যাপক দেসার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তার  অনুরোধে অধ্যাপক দেসা মুফতীকে পরীক্ষায় বসতে দিতে রাজি হলেন। সংযোগটি হলো দাবা খেলা। মুফতীর সাথে বড় আনন্দে দাবা খেলেন মোশাররফ হোসেন। অনুমতি দিলেও মুফতীর উপর বিশাল অ্যাসাইনমেন্টের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছিলেন অধ্যাপক দেসা।” 

এত বছর পর কথাগুলো বলতে গিয়ে অধ্যাপক কামরুলের কণ্ঠে ঝরে পড়ছিল শুধুই ভালবাসা। “জানো, পড়াশুনা না করলে কি হবে, পরীক্ষার আগে আগে আমাদের কাছ থেকে নোট নিয়ে অল্প সময়ে সব রপ্ত করে নিত মুফতী। অ্যাসাইনমেন্টও ঠিক সময়ে জমা দিতে পেরেছে। আমরা একটু সাহায্য করেছি মাত্র। যথারীতি পরীক্ষায় ভাল করেছে মুফতী।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের স্বনামধন্য অধ্যাপক ড. কাজী মোতাহার হোসেন। মুফতীকে বড় ভালবাসেন তিনি। সূত্রটা হচ্ছে দাবা খেলা। 

মজার এক তথ্য জানালো বন্ধু আমিনুল। ছুটি শেষে মুফতী বাসা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে ফিরবে।। মাকে বললো, একটা বালিশ আর কম্বল লাগবে। মা তো অবাক। গত ছুটি শেষে নতুন বালিশ ও কম্বল তো সে নিয়ে গিয়েছিল। মুফতী কুণ্ঠার সাথে মাকে জানায় বালিশ-কম্বল নিয়ে দাবা খেলতে গিয়েছিল। সারা রাত ধরে খেলা। দূর সেই জায়গা থেকে ফেরার সময় বালিশ-কম্বল নিতে ভুলে গিয়েছে। মা তার এই আত্মভোলা ছেলেটিকে বড় বেশি ভালবাসেন। সবার বড় ছেলেটিকে হারিয়েছিলেন যখন তার বয়স চার। তারপর মুফতি। মা মুফতীকে জড়িয়ে ধরে বলেন, “বালিশ-কম্বলের দরকার নেই বাবা, আমার ছেলে ফিরে আসলেই হলো।” 

কত অজানা যায়গায় মুফতী চলে গেছে, কিন্তু প্রতিবারই ফিরে এসেছে। কিন্তু ৭১-এর ১৪ জুনে সেই যে গেল মায়ের ‘আদরের পুতলা’ মুফতী, আর তো ফিরে এলো না! 

১৯৭১। আমাদের প্রজন্মের হিরন্ময় সময়। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর অমর ভাষণের পর থেকে ২৫শে মার্চের কালোরাতে পাকিস্তানি  হানাদার বাহিনীর গণহত্যা শুরু পর্যন্ত সময়টি বাঙালির জীবনে দুনিয়া কাঁপানো ১৮ দিন। এ সময়েই বাঙালি জনগণ মানসিকভাবে প্রস্তুত হয়ে যায় মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিতে। সর্বস্তরের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে যুদ্ধবিদ্যা শেখা ও সামরিক প্রস্তুতির কাজ শুরু করে দেয় এ সময়ে। 

মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতির জন্য পয়লা মার্চ তারিখে  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে আমরা গঠন করি ‘সূর্যসেন স্কোয়াড’। ২৭ মার্চ ঢাকা থেকে ময়মনসিংহের পথে আমাদের কয়েক জনের যাত্রা শুরু হল। প্রধানত, হেঁটে মুক্তাগাছায় আমরা পৌঁছে যাই এপ্রিলের শুরুতে। ময়মনসিংহ শহর তখনো মুক্ত। পুলিশ লাইন এবং ইপিআর ক্যাম্পের বাঙালি সদস্য এবং ২য় বেঙ্গল রেজিমেন্টের একটি কোম্পানির সৈন্যরা মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছে। জানতে পারলাম এদের  সাথে যুক্ত হয়েছে ছাত্র স্বেচ্ছাসেবকেরা। প্রতিরোধ রচনা করছে টাঙ্গাইল-মধুপুর হয়ে ময়মনসিংহের পথে আগুয়ান হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে। মুক্তাগাছায় গড়ে উঠেছে একটি ঘাঁটি। আমরাও যুক্ত হয়ে গেলাম সেখানে।

ভাই মুফতীর কাছে বোন সুলতানার চিঠি

ভাই মুফতীর কাছে বোন সুলতানার চিঠি

বহু বছর পর মুফতীর  যুদ্ধদিনের কথা বিস্তারিত শুনি মুফতীর ছোট ভাই ও মুক্তিযুদ্ধের সাথী হাদী হাসানের কাছ থেকে। ক্যাডেট কলেজে মুফতীর সহপাঠী জেনারেল (অব) মোহাম্মদ সাঈদের সাথে ফোনে কথা হয়। বলছিলেন, ৭ই মার্চে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনেই মুফতী বললো, “বার্তা পেয়ে গেছি। মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে হবে। ময়মনসিংহ চলে গেল মুফতী। অসহযোগের দিনগুলোতে যুদ্ধ প্রস্তুতি শুরু করে দিল।” 

২৭ মার্চ ফুলপূর-তারাকান্দা অঞ্চলের এমপি শামসুল হকের নেতৃত্বে তৎকালীন ইপিআর-এর আঞ্চলিক হেডকোয়ার্টার এবং পুলিশ লাইন থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে মুফতী ও তার সঙ্গীরা। মধুপুরে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধে বীরের মত লড়াই করে মুফতী ও তার দল। ১০ এপ্রিল ময়মনসিংহ শহরের পতনের পূর্ব পর্যন্ত মুফতী ও তার ভাই হাদী সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকে প্রতিরোধ সংগ্রামে। পাকিস্তানি গোলার আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। হয়তো আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হানাদার বাহিনী প্রবেশ করবে শহরে। আমার বড় সাঈদ ভাই এবং সাথী তাজুল ইসলাম বেবি ভাই ও আমি শহরের মিশন রোডের পাশে একটি চার্চ থেকে সংগ্রহ করেছি একটি  ফোর্ড করটিনা গাড়ি। শহর ছেড়ে চলে যাচ্ছি জামালপুরের দিকে। সাথে কয়েকটি হাল্কা অস্ত্র ও পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট থেকে নেয়া একটি সাইক্লোস্টাইল মেশিন। হাদী বর্ণনা করছিলেন ঠিক একই সময়ে একটি ল্যান্ড রোভার জিপ ও একটি ট্রাকে করে মুফতীর  নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধার দল শহর ছেড়ে গফরগাঁয়ে  তাদের গ্রামের দিকে যাত্রা করেছে। কত কাছে থেকেও আমাদের দেখা হয়নি। আহা, সে সময় মুফতীর সাথে দেখা হলে হয়তো আমরা একসাথেই যুদ্ধ করতাম!  

মুফতীর আঁকা কার্টুন। ছোটবোন সুলতানার সংগ্রহ থেকে নেওয়া

মুফতী ও তার দল গ্রামের বাড়ি চলে যায় প্রতিরোধ সংগ্রামকে সংগঠিত করার জন্য। ব্রহ্মপুত্র নদের ওপারে সে গ্রাম। সেখানে পাকিস্তানিদের পৌঁছানো সহজ ছিল না। এপ্রিল মাসের মধ্যেই হানাদার বাহিনী দখল করে নিয়েছিল জেলা শহরগুলো। মে মাস পার হয়ে জুন থেকে গ্রামের দিকে হানাদার বাহিনী এগুতে থাকে। তাদের পথ চিনিয়ে নেবার জন্যে রাজাকার, আলবদর ও অনুগত বাঙালি পুলিশ তখন তৎপর।  

এখন বলবো ১৪ জুনের কথা। একদিন খবর আসে গফরগাঁওয়ের এমপি অধ্যাপক শামসুল হুদার শ্বশুর সামাদ দফতরি গফরগাঁও থানার পুলিশের একটি দল ধরে নিয়ে যাচ্ছে। মুফতী তড়িৎ সিদ্ধান্ত নেয় বৃদ্ধ সামাদ দফতরিকে উদ্ধার করতে হবে। সে মুহূর্তে তার সাথে কোন মুক্তিযোদ্ধা ছিল না। একমাত্র সম্বল তার থ্রি নট থ্রি রাইফেল নিয়ে মুফতী একাই এগিয়ে গেল। কাউরাইদ স্টেশনের কাছে পাইথল গ্রামের এক ধানক্ষেতের সেচ দেয়ার ড্রেনের আড়ালে অবস্থান নিয়ে একটি ফাঁকা গুলি করলো মুফতী। অল্প দূরে পুলিশ বাহিনী। চিৎকার করে মুফতী বললো দফতরিকে ছেড়ে দিতে। তা না হলে তাদের উপর গুলি করবে মুক্তিযোদ্ধারা। ভয় পেয়ে সামাদ দফতরিকে ছেড়ে দিয়ে উর্ধ্বশ্বাসে পালায় পুলিশ। বৃদ্ধ সামাদ দপ্তরী জীবন ফিরে পেয়ে নিরাপদ দূরত্বে চলে এসেছেন। মুফতীর মিশন সফল। পলায়মান পুলিশের অবস্থান জানতে মাথা একটু উঁচু করেছিল মুফতী। 

ঘাতক বাহিনীর একজন তাকে দেখে ফেলে। বুঝে ফেলে মাত্র একজন মুক্তিযোদ্ধা আছে এখানে। তার ছোড়া গুলি সরাসরি আঘাত করে মুফতীর মাথায়। লুটিয়ে পড়ে মুফতি। এবার ঘাতকেরা এগিয়ে আসে। মুফতীর উপর আরো গুলিবর্ষণ করে তারা চলে যায়। সেই জলমগ্ন ধানক্ষেতে পড়ে থাকে শহীদ মুফতী মোহাম্মদ কাসেদের নিথর দেহ। পরদিন ১৫ জুন তারিখে গ্রামবাসী পরম মমতায় শহীদ মুফতীকে   দাফন করে পাইথল গ্রামের জয়ধর খালী পাড়ায়। ১৭ জুন ময়মনসিংহ শহর হেডকোয়ার্টার থেকে পাকিস্তানি বাহিনী গ্রামে হানা দিয়ে কবর খুঁড়ে লাশ নিয়ে যায় ময়মনসিংহ শহরে। ময়না তদন্ত হয় সে লাশের। তারপর তার স্বজনদের খোঁজ শুরু করে। দালালরা জানিয়ে ছিল এর বাবা ময়মনসিংহ পৌরসভা অফিসের সচিব।

মুক্তিযুদ্ধের অবিস্মরণীয় বহু শোকগাঁথার একটি রচিত হয় পৌরসভা অফিসে। একটি লাশ নিয়ে এসেছে হানাদার বাহিনী। পাকিস্তানি এক মেজর মুফতীর বাবা ওয়াহীদ সাহেবকে নির্দেশ দেয় তার ছেলেকে শনাক্ত করতে। পিতার সামনে পুত্রের লাশ। কী করবেন পিতা? যদি স্বীকার করেন এই লাশ তার পুত্রের, তা হলে তিনি ও তার পরিবার শুধু নয়, মুফতীর সহযোদ্ধাদের সমূহ বিপদ। অস্বীকার করলে শুধু নিজের জীবন বিপণ্ণ হতে পারে।  মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেন পিতা। লাশের দিকে ভাল করে তাকান। তারপর মেজরের চোখের দিকে নিস্পলক, নিষ্কম্প চোখে তাকিয়ে উত্তর দেন এ তার ছেলে নয়। কে জানে, কেন সেই মেজর আর কোন জিজ্ঞাসাবাদ করে না। পৌরসভার একটি কাজ হলো বেওয়ারিশ লাশের দাফনের ব্যবস্থা করা। সেই রাতে কয়েজন কর্মচারিকে নিয়ে ওয়াহীদ সাহেব তার আদরের ধন, দশ পুত্র-কন্যার মধ্যে সবচেয়ে মেধাবী মুফতীর লাশ গোসল করিয়ে সাদা কাপড়ে মুড়ে কালীবাড়ির সরকারী কবরস্থানে সমাহিত  করেন। তার পরনে ছোপ ছোপ রক্তে ভেজা হলুদ রঙের মোটা খদ্দরের হাফশার্টটি ধুয়ে তিনি রেখে দেন পরম যত্নে। এই শার্টতো তার বড় চেনা। 

৭০-এর ডিসেম্বরে তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মুফতী এসেছে বাসায়। বাবা তাকে নিয়ে গেলেন শহরের অভিজাত গৌরহরি বস্ত্রালয়ে। আর মাত্র এক বছর পর ইঞ্জিনিয়ার হয়ে বেরোবে পুত্র। একটা স্যুট বানিয়ে দেবেন তাকে। নানা রঙের থান দেখানো হচ্ছে মুফতীকে। মুফতী বললো ওই হলুদ রঙের মোটা খদ্দরের থানটি নামাতে। সে কাপড়ে একটি হাফ শার্ট বানাতে দিল মুফতি। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে এই শার্টে বড় বড় পকেট লাগিয়ে নিল মুফতী যাতে থ্রি নট থ্রি রাইফেলের কয়েকটি ম্যাগাজিন রাখা যায়।  ১৪ জুন পাইথল গ্রামে যখন শত্রু পক্ষের গুলি মুফতীকে বিদ্ধ করছে, তখন তার গায়ে ছিল এই হলুদ শার্ট। মা ছেলের লাশ দেখেননি, মৃত্যু অবধি মুফতীর এই হলুদ শার্টটি বার বার বুকে চেপে ধরেছেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর মুফতীর বন্ধুরা তার কবরে লিখেছেন ‘হে পথিক ক্ষণিক থামো, তারপরে নাও পথ! এ মাটির প্রেমে দিয়েছে যে প্রাণ – এখানেই থেমেছে তার জীবন রথ।’

এবারে কিছু কঠিন সত্যের মুখোমুখি আমাদের দাঁড়াতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের প্রথম দিকেই মুফতী মোহাম্মদ কাসেদের শহীদ হওয়া বিষয়ে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ বহুজনেরা জানতেন। গফরগাঁও অঞ্চলের এমপি অধ্যাপক শামসুল হুদার শ্বশুর বৃদ্ধ সামাদ দফতরিকে শত্রু বাহিনীর হাত থেকে মুক্ত করতে মুফতী একা এগিয়ে গিয়েছিলেন। মুক্ত করেছিলেন তাকে। কিন্তু নিজের জীবন উৎসর্গ করে। এমপি শামসুল হুদা তো তা জানতেন। বাংলাদেশ হওয়ার পর সামাদ দফতরির পুত্র গফরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান হয়েছিলেন। অন্তত জয়ধর খালী পাড়ায় মুফতীর প্রথম কবরে একটি স্মৃতিস্তম্ভ করতে পারতেন। কিছুই করেননি তারা। ফুলপূর-তারাকান্দা অঞ্চলের মুফতীর   আত্মীয় এমপি শামসুল হকের নেতৃত্বে মুফতী মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন। মুফতীর   শহীদ হওয়ার খবরতো তারও জানা। ময়মনসিংহ অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড জানতো সে তথ্য। ময়মনসিংহের গৌরীপুর এলাকার বর্তমান আওয়ামী লীগ এমপি নাজিমুদ্দিন আহমেদ। সব জানেন মুফতীর   শহীদ হওয়া সম্পর্কে। রাজাকার, আলবদর, শান্তি কমিটির চেয়ারম্যানদের নাম উঠেছে মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদের তালিকায়। মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদের তালিকায় মুফতীর নামটি যুক্ত করতে এদের বড়ই অনীহা।

ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতি ছাত্র ও স্বনামধন্য দাবা খেলোয়াড় হিসেবে মুফতীর  পরিচয় তো অজানা ছিল না। তারপর ও কেন শহীদের তালিকায় এই বীরের নাম নেই। ছোট ভাই ও সহযোদ্ধা হাদীর ক্ষোভ ও আক্ষেপ সেখানে। বলছিলেন তিনি, “সারা পৃথিবীর মানুষ যারা মুক্তিযুদ্ধকালে আমাদের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন, সাহায্যের হাত বাড়িয়েছিলেন, সরকার তাঁদের যথাযোগ্য সম্মান জানিয়েছে। সে জন্য বর্তমান সরকারের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। কিন্তু নিজ দেশে মুফতীর মত এমন একজন উৎসর্গিত মুক্তিযোদ্ধার নাম কেন মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায়, শহীদের তালিকায় নেই? কেন তার সরকারী স্বীকৃতি থাকবে না।” 

অধ্যাপক কামরুলের কাছে জানলাম বুয়েটে মুফতীর নাম শহীদের তালিকায় আছে। ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ কর্তৃপক্ষ ভুলে যায়নি মুফতী কাসেদকে। কিন্তু সরকার, আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কী করেছেন? প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার এবং তিতুমীর হলে শহীদের তালিকায় মুফতীর   নাম আছে। তারপরও বলবো এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, অধ্যাপকরা বিশেষ করে মুফতীর সহপাঠী যারা সেখানে অধ্যাপনা করেছেন, তাদের আরো কিছু কর্তব্য আছে। মুফতীর পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে জানলাম, মুফতীর   ছবি, অ্যালবাম, ব্যবহার্য দ্রব্যাদি বুয়েটের একজন অধ্যাপককে তারা দিয়েছিলেন। তিনি চলে গেছেন আমেরিকায়। মুফতীর ব্যাপারে কোন উদ্যোগও নেননি। মহা মূল্যবান মুফতীর স্মৃতি যা কিছু নিয়েছিলেন তার কোন কিছু আর ফেরতও দেননি তিনি। মুফতীর নামে যে দাবা প্রতিযোগিতা হত, তাও নেই। ‘বুয়েট চেস ক্লাব’ আছে। শহীদ মুফতীর   নামে যে এই ক্লাবটি হতে পারে এমন কোন বোধ এই স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কারও কি নেই?


এই লেখা যখন শেষ করে এনেছি, তখন গতরাতে হাতে এলো এক গুচ্ছ দুর্লভ চিঠির ফটো কপি। হাদী হাসান পাঠিয়েছেন। জানিয়েছেন মুফতীর ডায়রি ও আরো বহু চিঠি ছিল। সেগুলো উদ্ধার করা যায়নি। বেশিরভাগ নিয়েছেন গুণীজনেরা, ফেরত দেননি। বাকি সব উঁইপোকার পেটে গেছে। ফৌজদারহাট কলেজে পড়বার সময় মুফতী লিখেছে বাবা-মা-ভাই-বোনদের। মুফতীকে লেখা তাদের  চিঠিও আছে। ক্লাস সিক্স থেকে শুরু করে ক্লাস টেন পর্যন্ত মুফতী সবচেয়ে বেশি লিখেছে বাবাকে। সব চিঠি ইংরেজিতে। বাবাও দীর্ঘ চিঠি লিখেছেন পুত্রকে। ইংরেজিতে। ছোট বেলা থেকে ছেলে-মেয়েদের ইংরেজি শিখিয়েছেন। তার ছাপ পাওয়া গেল ক্লাস সিক্সে পড়বার সময়ে মুফতীর ইংরেজিতে লেখা চিঠি দেখে। 

শুরুতে ছোট বোন সুলতানার রুমাল গুছিয়ে দেওয়ার কথা দিয়ে শুরু করেছিলাম। ভাইকে লেখা তার চিঠিও আছে। প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাকে লেখা মুফতীর একটি চিঠি, তারিখ বিহীন। মুফতীর আঁকা কার্টুন আছে। সবার ছোট ছেলে আমেরিকা প্রবাসী প্রকৌশলী পুত্র তোফাকে লেখা বাবার চিঠিটি ইংরেজিতে টাইপ করা। বয়স তখন তার ৮৫। তাই হয়তো হাতে লিখতে অপারগ হয়েছেন। গভীর অন্তর্দৃষ্টি সম্পন্ন এক দার্শনিকের পত্র যেন পাঠ করলাম। পত্রের শেষ কটি লাইন, “So pray for me – for your mother & our forefathers  who have preceded us to the Great unknown. It is immaterial in whichever part of this planet we live & die – because we must leave it – our stay here is very insignificant in the boundless canvas of eternity.”

আহা, এই বাবা শেষ পর্যন্ত দেখে যেতে পারেননি তার সবচাইতে যোগ্য পুত্র মুফতীর নামটি শহীদের তালিকায় উঠেছে! 


শেষ করবো কয়েকটি প্রস্তাব করে:

১. মুক্তিযোদ্ধা তালিকা এবং মুক্তিযুদ্ধে মহান শহীদদের তালিকায় মুফতী মোহাম্মদ কাসেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হোক। সে লক্ষ্যে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়ের মাননীয় মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম মোজাম্মেল হক এবং সচিব জনাব তপন কান্তি ঘোষের সুদৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

২. মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্ব প্রদর্শন করে দখলদার বাহিনীর হাত থেকে বৃদ্ধ সামাদ দফতরিকে উদ্ধার এবং বিনিময়ে নিজের  জীবন উৎসর্গ করার যে মহত্তম দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন, তার জন্য মুফতী মোহাম্মদ কাসেদকে মরণোত্তর বীরত্বসূচক খেতাব দেওয়া হোক। আশা করি মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী এ বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।

৩. ময়মনসিংহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ কোনও স্থানে তার একটি আবক্ষ ভাস্কর্য স্থাপন করা হোক। এ বিষয়ে ময়মনসিংহ পৌরসভা ও জেলা প্রশাসকের সুদৃষ্টি কামনা করছি।  

৪. বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কোন হল বা স্থাপনার নাম মুফতী মোহাম্মদ কাসেদের নামে করা হোক। খুব আশা করছি মাননীয় উপাচার্য এবং সিন্ডিকেট এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। শহীদ মুফতীর   নামে হোক ‘বুয়েট চেস’ ক্লাবটি। দাবা টুর্নামেন্ট আবার চালু হোক তার নামে।

৫. ১৯৭১ সালের ১৪ জুন গফরগাঁও থানায় কর্মরত যে পুলিশ সদস্যরা মুফতীর  হত্যাকাণ্ডে জড়িত তাদের খুঁজে বের করা হোক। কেউ জীবিত থাকলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাদের বিচারের সম্মুখীন করা হোক। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মহামান্য বিচারকদের সুদৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

২৩ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধে জীবন দিয়েছিল মুফতী। আমার বয়স এখন ৭১। দীর্ঘদিন বেঁচে আছি। মৃত্যুর আগে যদি উপরের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হয়, তবে নিজের জীবনকে ধন্য মনে করবো। ভাইয়ের জন্য পরম মমতায় যে ছোট বোন সুলতানা রুমাল গুছিয়ে দিয়েছিল, মুফতীর  সহযোদ্ধা ছোটভাই হাদী যে তার সাথে বেহালা বাজাতো সে ও মুফতীর পরিবারের বাকি সদস্যরা তাতে হয়তো কিছুটা শান্তি পাবে।

(ড. মো. আনোয়ার হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও শহীদ মুফতী মোহাম্মদ কাসেদের স্কুল জীবনের বন্ধু।)



Saturday, October 31, 2020

‘সিলিকন ভ্যালি’ এখন হতাশার নাম

‘সিলিকন ভ্যালি’ এখন হতাশার নাম

কথা ছিল যশোর শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক হবে বাংলাদেশের সিলিকন ভ্যালি। মেধাভিত্তিক অর্থনীতির দ্বার উন্মোচিত হবে পার্কটি চালুর মাধ্যমে। তিন বছর পর সেটি এখন হতাশার নাম।


কেন হতাশা? কারণ, বিনিয়োগ ততটা হয়নি, যতটা প্রত্যাশিত ছিল। বিদেশি বিনিয়োগ আসেনি বললেই চলে। বর্তমান বিনিয়োগকারীদের বেশির ভাগ প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল মার্কেটিং, কল সেন্টার পরিচালনা ও গ্রাফিকস ডিজাইনিংয়ের কাজ করেন। কর্মসংস্থানের লক্ষ্য পূরণের ধারেকাছেও যেতে পারেনি পার্কটি। বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ পার্কটি ছেড়েছেন। বিপুল ব্যয়ে নির্মিত ডরমিটরি বা আবাসনসুবিধা খালিই থাকছে। সম্মেলনকেন্দ্র বা অ্যাম্ফিথিয়েটার বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য ভাড়া দেওয়া হয়।

২০১৭ সালের ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক উদ্বোধন করা হয়। যশোর শহরের নাজির শঙ্করপুর এলাকায় ১২ একরের কিছু বেশি জমিতে পার্কটি করতে সরকারের ব্যয় হয়েছে ৩০৫ কোটি টাকা। এটি চালুর আগে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ গণমাধ্যমে বলেছিলেন, যশোর হাইটেক পার্ক হবে বাংলাদেশের সিলিকন ভ্যালি। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালি বহু প্রযুক্তি কোম্পানির আঁতুড়ঘর। গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে সেটি অদ্বিতীয়।

যশোর শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়ে বক্তব্য জানতে নানাভাবে চেষ্টা করেও প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তাঁকে এ-সংক্রান্ত প্রশ্নও লিখে পাঠানো হয়। কিন্তু তিনি কোনো জবাব দেননি।

বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসনে আরা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, কিছু সমস্যা আছে। বিনিয়োগকারীদের নানা চাহিদা আছে। ভাড়া মওকুফ, বিদ্যুৎ বিল মওকুফসহ অনেক কিছুই তাঁরা চাইতে পারেন। কিন্তু এটা তো কোনো সংস্থা করতে পারে না। বিনিয়োগকারীদের সব চাওয়া সঠিক নয়।

বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে না পারার বিষয়ে হোসনে আরা বলেন, ‘বড় প্রতিষ্ঠান আসার চেয়ে সফটওয়্যারের কাজ হবে, তেমনটাই কথা ছিল। বড় প্রতিষ্ঠান এলে তাদের আমরা উৎসাহ দেব। বড় প্রতিষ্ঠান না আসায় সে উৎসাহের বিষয়টি হয়নি।’

বিনিয়োগ মাত্র ৬০ কোটি টাকা

হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, এখন পর্যন্ত যশোর হাইটেক পার্কে বিনিয়োগ এসেছে প্রায় ৬০ কোটি টাকা। পার্কটি ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান টেক সিটি জানিয়েছে, সেখানে ৫০টি প্রতিষ্ঠান জায়গা বরাদ্দ নিয়েছে। এর মধ্যে কার্যক্রমে রয়েছে ৩৮টি। অবশ্য সরেজমিনে ৩২টি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পাওয়া যায়।

পার্কটির মূল ১৫ তলা ভবনে ১ লাখ ৩৭ হাজার বর্গফুট জায়গা ইজারাযোগ্য। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়া প্রায় ৯৫ হাজার বর্গফুট। ৩টি প্রতিষ্ঠান প্রায় ১০ হাজার বর্গফুট জায়গা নিয়ে ফেলে রেখেছে। ফলে ৩৮ শতাংশ জায়গা এখনো খালি রয়েছে। আশানুরূপ বিনিয়োগ না হওয়ায় কর্মসংস্থানও হয়নি। মোট ১ হাজার ৪০০ কর্মী সেখানে কাজ করেন। তবে প্রতিষ্ঠার সময় পাঁচ হাজার কর্মীর কাজ পাওয়ার কথা বলা হয়েছিল।

বিনিয়োগের ধরনও খুব বেশি আশাজাগানিয়া নয়। বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানই প্রশিক্ষণধর্মী। তারা বিভিন্ন প্রকল্পের অধীনে প্রশিক্ষণের কাজ করে। সফটওয়্যার তৈরি করে, এমন প্রতিষ্ঠান রয়েছে মাত্র ছয়টি, যা হলো মাইক্রো ড্রিম আইটি, টেকনোসফট বাংলাদেশ, সফট এক্স টেকনোলজি, ডেসটিনি আইএনসি ডট, সেমিকোলন আইটি ও অংশ ইন্টারন্যাশনাল। কিছু প্রতিষ্ঠান কল সেন্টার পরিচালনা, ডিজিটাল বিপণন, গ্রাফিকস ডিজাইনসহ বিভিন্ন ধরনের কাজ করে। সূত্র জানায়, পার্কটিতে বিদেশি কোনো বিনিয়োগ নেই। ডেসটিনি আইএনসি ডট নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে জাপানি বিনিয়োগকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। আসলে প্রতিষ্ঠানটির মালিক বাংলাদেশি, যিনি জাপানে থাকেন।

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আবদুস সাত্তারের এন সল্যুশন নামে একটি প্রতিষ্ঠান আছে যশোর হাইটেক পার্কে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভেবেছিলাম বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো যশোর হাইটেক পার্কে বিনিয়োগ করবে। তাদের মাধ্যমে আমরাও শিখব। কিন্তু কিছুই হয়নি।’ এখন নিজের প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ নিয়েই শঙ্কার কথা জানান তিনি।

পার্ক ছেড়েছে ১৭টি প্রতিষ্ঠান

৩ বছরে ১৭টি প্রতিষ্ঠান যশোর হাইটেক পার্ক ছেড়েছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, তারা যেসব প্রত্যাশা নিয়ে গিয়েছিল, তা পূরণ হয়নি। এর মধ্যে একটি বড় সমস্যা দক্ষ জনবল না পাওয়া। ইজারামূল্য নিয়ে বিরোধ, উন্নত বিদ্যুৎ সেবা না থাকা এবং বিভিন্ন দাবিদাওয়াকেও সমস্যার তালিকায় যুক্ত করছেন বিনিয়োগকারীরা।

বিনিয়োগকারীরা বলছেন, সরকারের যেসব স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ দেয়, তাতে কোনো দক্ষ কর্মী তৈরি হয় না। ২০১৭ সালে যশোর পার্কে বেশ আয়োজন করে চাকরি মেলা করা হয়েছিল। চাকরিপ্রার্থীদের প্রচুর আবেদন জমা পড়ে। কিন্তু সেখান থেকে জনবল তৈরি হয়নি।

সে সময়ে যশোর পার্কের প্রকল্প পরিচালক ছিলেন যুগ্ম সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম (বর্তমানে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে কর্মরত)। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘অনেক তরুণ সাড়া দিয়েছিল। কিন্তু যেহেতু এটা তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ের, তাই সবার আবেদন নেওয়া যায়নি।’

একটি ডেটা সেন্টার করতে চেয়েও যশোর হাইটেক পার্কে তা করতে পারেনি ঢাকাকোলো লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান বিপণন কর্মকর্তা রেজাউল করিম প্রথম আলোকে বলেন, ডেটা সেন্টারের জন্য বিদ্যুতের একাধিক বিকল্প উৎস থাকতে হয়। অন্তত দুটি জেনারেটর থাকতে হবে। কিন্তু হাইটেক পার্কে জেনারেটর বসানোর মতো কোনো জায়গা নেই। বিদ্যুতের বিকল্প উৎসও পাওয়া যায়নি।

যশোর হাইটেক পার্কটিকে ১৫ বছরের জন্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে টেকসিটি বাংলাদেশ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে। তাদের নিয়ে বিনিয়োগকারীদের নানা অভিযোগ রয়েছে। একটি হলো ইজারামূল্য। কোনো প্রতিষ্ঠানের বর্গফুটপ্রতি ১৮ টাকা, কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ২২ টাকা ভাড়া নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। সূত্র জানিয়েছে, ছয়টি প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্যদের ভাড়া তিন মাসের বেশি বকেয়া রয়েছে। অবশ্য যারা হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ইজারা নিয়েছিল, তাদের ভাড়া পড়েছে বর্গফুটপ্রতি ১৪ টাকা।

টেকসিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ওয়াহিদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, এখানে নীতিগত কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যেটা ভেবে হাইটেক পার্কের সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল, তার সঙ্গে বাস্তবতার অনেক পার্থক্য। এত বড় একটা অবকাঠামোর ব্যবস্থাপনার খরচ অনেক। অনেক কিছু হিসাব না করেই সরকার সেখানে ভাড়া নির্ধারণ করেছিল। তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন, বিনিয়োগকারীদের অনেকে ভাড়া দিচ্ছেন না। তাঁদের কাছে ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকা ভাড়া বাকি।

‘সিলিকন ভ্যালি’ এখন হতাশার নাম

অ্যাম্ফিথিয়েটারে বিয়ে, ডরমিটরি খালি

যশোর হাইটেক পার্কে ডরমিটরিটি তিন তারকা মানের। মোট কক্ষ ৯০টি। ভিআইপি সুইট কক্ষ ১২টি, ফ্যামিলি ডিলাক্স কক্ষ ৩৬টি ও দুই বিছানার কক্ষ ৩০টি। ১৪০ জনের মতো থাকার সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। ভিআইপি কক্ষে থাকার জন্য প্রতি রাতের ভাড়া ৭ হাজার ৬০০ টাকা ও অপর দুই ধরনের কক্ষের ভাড়া ৩ হাজার ৮০০ টাকা করে। তবে পার্কে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য ভাড়া নির্ধারিত আছে ৮০০ টাকা।

কথা ছিল দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী, ক্রেতা ও কর্মীরা গেলে ডরমিটরিতে থাকবেন। যদিও এখন বেশির ভাগ কক্ষ সব সময় খালি থাকে। ২২ অক্টোবর গিয়ে দেখা গেছে, মাত্র ১২ জন অতিথি আছেন। পুরো সেপ্টেম্বর মাসে ডরমিটরিটিতে ১৬২ জন অতিথি ছিলেন।

সম্মেলন কেন্দ্র বা অ্যাম্ফিথিয়েটার করা হয়েছিল সম্মেলন, সভা-সেমিনার করার জন্য। এখন বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্যও ভাড়া দেওয়া হয়। গত ফেব্রুয়ারিতে যশোরের একজন পরিবহন ব্যবসায়ীর ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠান হয়েছিল অ্যাম্ফিথিয়েটারে। সেখানে অতিথি ছিলেন প্রায় আড়াই হাজার মানুষ।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সাবেক সভাপতি ফাহিম মাশরুর প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাত ততটা বড় হয়নি। এমন তো নয় যে দেশে হাজার হাজার কোম্পানি তৈরি হচ্ছে। কোম্পানি যদি তৈরি না হয়, হাইটেক পার্কে কারা যাবে? তিনি বলেন, দেশে বেশির ভাগ কোম্পানির জনবল ২০ থেকে ৩০ জন। এত কম লোক নিয়ে কোনো প্রতিষ্ঠানের ঢাকার বাইরের পার্কে যাওয়া পোষাবে না।

ফাহিম মাশরুরের মতে, শুধু পার্ক বানালেই হবে না, প্রযুক্তি খাত যাতে বড় হয়, চাহিদা তৈরি হয়, সে ব্যাপারে সরকারকে কাজ করতে হবে। এসব পার্ক নির্মাণের আগে দক্ষ জনশক্তি তৈরির বিষয়েও মনোযোগী হতে হবে।

‘করার জন্যই করা হয়’

তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের বিকাশ ও উন্নয়নের মাধ্যমে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার লক্ষ্যে সরকার ২৮টি হাইটেক পার্ক করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। পরে ৬৪টি জেলায় হাইটেক পার্ক প্রতিষ্ঠা করা হবে। বিগত পাঁচ বছরে ঢাকায় জনতা টাওয়ার সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক, যশোরে শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক, গাজীপুরে বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটি, নাটোরে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার এবং রাজশাহীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাইটেক পার্ক চালু হয়েছে।

এ বিষয়ে বৃহৎ প্রকল্প বিশেষজ্ঞ ও সাবেক সচিব মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ ধরনের প্রকল্প করার আগে সম্ভাব্যতা যাচাই এবং দক্ষ জনবল থেকে শুরু করে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করতে হয়। নিয়ম হচ্ছে, পাইলট (পরীক্ষামূলক) প্রকল্প করা। তার সফলতার ভিত্তিতে বাকিগুলো করতে হয়। এতে আগের ভুল বা সমস্যাগুলো যাচাইয়ের সুযোগ থাকে। আমাদের এখানে সেটা হচ্ছে না। প্রকল্প করতে হবে, তাই করা হয়।’


সুহাদা আফরিন

সুহাদা আফরিনমনিরুল ইসলামঢাকা ও যশোর

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২০, ১০:২৮


Monday, October 19, 2020

বাংলাদেশের সর্বকনিষ্ঠ বীরপ্রতীক

বঙ্গবন্ধুর কোলে যার ছবি, যে কিশোরটিকে দেখছেন তার নাম শহীদুল ইসলাম লালু, বীরপ্রতীক। বাংলাদেশের সর্বকনিষ্ঠ বীরপ্রতীক, যিনি মাত্র ১৩ বছর বয়সে এই খেতাব পেয়েছেন।

কি করেছিলেন লালু? অপারেশন গোপালপুর থানা নামে মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বের ঘটনাটি একান্তই শহীদুল ইসলাম লালুময়। যুদ্ধের উত্তুঙ্গ দিনগুলোতে গ্রুপ কমান্ডার পাহাড়ি তাকে নির্দেশ দেন গোপালপুর থানার হালহকিকত জেনে আসতে, মুক্তিযোদ্ধারা কিভাবে তা দখল করতে পারে। লালু গিয়ে সেখানে তার এক দূর সম্পর্কের তুতো ভাই সিরাজের দেখা পান। সিরাজ পাকিস্তানী সেনাদের দালালী করে, তাকেও একই কাজ করার প্রস্তাব দেয়। লালু রাজী হয়ে যান। পরের দফা তিনটি গ্রেনেড নিয়ে থানায় হাজিরা দেন তিনি। অল্পবয়স বলে তাকে চেক করা হয় না। মুক্তিযোদ্ধাদের আগেই জানান দিয়ে রেখেছিলেন তার অভিপ্রায়। পুরো পুলিশ স্টেশন একবার চক্কর মেরে এসে, এক বাংকারে প্রথম গ্রেনেড চার্জ করলেন লালু। ভীত ও হতভম্ব পাকিস্তানীরা আন্দাজে গুলি ছুড়তে শুরু করে লক্ষহীন। শুয়ে লালু দ্বিতীয় গ্রেনেডটি ছোড়েন, কিন্তু এটা ফাটে না। এখান থেকে আর বেরুনো হবে না- এই ভয় পেয়ে বসে তাকে। তারপরও তৃতীয় গ্রেনেডটি সশব্দে ফাটে আরেকটি বাংকারে। এদিকে মুক্তিযোদ্ধারাও এগিয়ে এসেছেন। গোলাগুলির এই পর্যায়ে সিরাজ এসে লালুকে একটি অস্ত্র ধরিয়ে দেয়, জিজ্ঞেস করে চালাতে পারে কিনা। লালু তাকে পয়েন্ট ব্ল্যান্ক রেঞ্জে গুলি করেন। এই ঘটনায় কিছু পাকিস্তানী পালায়, কিছু ধরা পড়ে, মারা যায় অনেক। হতাহতের মধ্যে দিয়েও মুক্তিযোদ্ধারা দখল করে নেন গোপালপুর থানা। বলতে গেলে শহীদুল ইসলাম লালুর একক কৃতিত্বে। 

Friday, September 25, 2020

নিমতলা কোর্ট চত্বর মেহেরপুর

 

যায়গাটা সবাই চেনে
সবাই যানে এটা মেহেরপুর কোর্ট চত্বরের #নিমতলা কিন্তু অনেকেই জানেনা এই নিমতলার ইতিহাস।
হ্যা ছবির এই লোকটি এই নিমগাছের বহমান জীবিত সাক্ষি।
১৯৬৪ সালের ১৩ই সেপ্টেম্বর তিনি এই গাছটি এখানে লাগান। মানুষটার নাম মো রমজান অালি মোহরি।
গ্রাম হরিরামপুর, অনেক্ষন কথা বললাম মুরুব্বির সাথে। আমার মনে হয় এখনকার যত বড় সব উকিল, মুহরি রয়েছেন তাহার নিচ সব।
শ্রদ্ধার সাথে সালাম যানাই এই মানুষটি কে।