Tuesday, August 5, 2025
প্রতিমন্ত্রী ফরহাদের আয় বেড়েছে, স্ত্রীর বেড়েছে সম্পদ
২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ফরহাদ হোসেন কলেজে শিক্ষকতা করে বছরে আয় করতেন ৬ লাখ ১২ হাজার ৩৪০ টাকা। ১০ বছর পর এখন তিনি কৃষি, ব্যবসা, শেয়ার ও প্রতিমন্ত্রীর পারিশ্রমিক মিলিয়ে বছরে আয় করেন ৭৭ লাখ ১ হাজার ৮৫০ টাকা। যা ২০১৪ সালের তুলনায় ১২ গুণ বেশি।
মেহেরপুর-১ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের তিনটি সংসদ নির্বাচনের হলফনামা বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে তাঁর স্ত্রী সৈয়দ মোনালিসা ইসলামের নগদ ৫ লাখ টাকা ও ৪০ ভরি সোনা থাকলেও এখন তাঁর অস্থাবর সম্পদের আর্থিক মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২০ লাখে। এর মধ্যে নগদ আছে ৪৭ লাখ ও ব্যবসায় বিনিয়োগ আছে ৪০ লাখ টাকা। যদিও কোনো হলফনামাতেই প্রতিমন্ত্রীর স্ত্রীর আয়ের উৎসের কোনো তথ্য উল্লেখ নেই।
ফরহাদ হোসেন টানা তৃতীয়বারের মতো আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর তিনি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০১৮ সালের নির্বাচনের হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় ফরহাদ হোসেন বছরে আয় করতেন ১০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। যার মধ্যে কৃষি খাতে ৪ লাখ, শেয়ার ও সঞ্চয়পত্র থেকে ১৫ হাজার ও অন্যান্য খাত থেকে ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
এবারের হলফনামায় উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী নগদ, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ, জিপ, স্বর্ণালংকার, আসবাব, ইলেকট্রনিক সামগ্রী মিলিয়ে প্রতিমন্ত্রীর অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি ২৭ লাখ ২ হাজার টাকা। ২০১৪ সালে যার পরিমাণ ছিল ২৬ লাখ ৬৬ হাজার ২৩৭ টাকা। ১০ বছরে অস্থাবর সম্পদ ১২ গুণ বেড়েছে। ১০ বছর আগে ফরহাদ হোসেনের হাতে নগদ টাকা ছিল ৯ লাখ। ২০১৮ সালে ছিল ৬ লাখ। এখন তাঁর হাতে নগদ টাকা আছে ১ কোটি ৩৬ লাখ ৬০ হাজার। ওই সময় তাঁর স্ত্রীর হাতে নগদ ছিল ৫ লাখ টাকা। ১০ বছরের ব্যবধানে তা হয়েছে ৪৭ লাখ টাকা। আগে না থাকলেও এখন প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত ঋণ হয়েছে ৫৬ লাখ টাকা।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি গোলাম রসুল বলেন, ফরহাদ হোসেন সংসদ সদস্য হওয়ার পরই তাঁর ও তাঁর পরিবারের প্রত্যেকের অর্থনৈতিক করুণ পরিস্থিতি বদলেছে, যেন আঙ্গুল ফুলে কলাগাছের মতো। এসব অর্থ তিনি কীভাবে আয় করেছেন তা সবার জানা।
সম্পদ বৃদ্ধির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা যখন যৌথ পরিবার ছিলেন তখন কৃষিজমি থেকে তাঁর নিজস্ব কোনো আয় ছিল না। পরিবারের সম্পত্তি বণ্টন হওয়ার পর কৃষিজমি হয়েছে। এই জমি থেকে আয় হতে শুরু করেছে। বেতন–ভাতা থেকে বছরে ৩০ লাখ টাকার সমপরিমাণ যোগ হচ্ছে। তিনি ঢাকায় কয়েকটি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। সেখান থেকেও আয় হয়। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধীরা সব সময় আমার বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার করে আসছে। আমার বিরুদ্ধে একটিও অবৈধ আয়ের উৎস খুঁজে বের করতে পারবে না তারা।’
প্রতিমন্ত্রীর স্ত্রীর নামে ২০১৪ সালে কোনো জমি ছিল না। বর্তমানে তাঁর ২ বিঘা ৫ কাঠা কৃষিজমি রয়েছে, যার আর্থিক মূল্য উল্লেখ করা হয়েছে ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রতিমন্ত্রীর অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নগদ ১ কোটি ৩৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা; ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ২৯ লাখ ১ হাজার টাকা; বন্ড, ঋণপত্র ও শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ ৬ লাখ ৩৩ হাজার টাকা; সঞ্চয়পত্র ও স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ ৪০ লাখ টাকা; ৭৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের জিপ গাড়ি, ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ২৫ ভরি সোনা (বিয়েতে উপহার ও উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া); ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা মূল্যের গৃহস্থালি সামগ্রী; ব্যবসায় বিনিয়োগ ৩১ লাখ ৩৩ হাজার টাকা; ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের শর্টগান ও পিস্তল এবং শেয়ার ব্যালেন্স ১২ হাজার ৭৫৩ টাকা। ২০১৮ সালে তিনি ৭৩ লাখ টাকার একটি জিপ ও ৭ লাখ টাকার একটি মাইক্রোবাস থাকার কথা উল্লেখ করেছিলেন।
স্থাবর সম্পদ হিসেবে প্রতিমন্ত্রীর ২৭৪ দশমিক ৪৫ শতক কৃষিজমি, ৩১ দশমিক ৪৩ শতক অকৃষিজমি ও উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পে ১ হাজার ৬৫৪ বর্গফুটের ফ্ল্যাট হয়েছে; যা ২০১৪ সালের হলফনামায় ছিল না। এগুলো উত্তরাধিকার ও ক্রয়সূত্রে পাওয়া বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১৮ সালে তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ৫১ শতক অকৃষিজমি থাকার কথা উল্লেখ করেছিলেন। তাঁর স্ত্রীর নামে ২০১৪ সালে কোনো জমি ছিল না। বর্তমানে তাঁর ২ বিঘা ৫ কাঠা কৃষিজমি রয়েছে, যার আর্থিক মূল্য উল্লেখ করা হয়েছে ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
প্রতিমন্ত্রীর স্ত্রীর ২০১৪ সালে অস্থাবর সম্পদ হিসেবে ছিল নগদ ৫ লাখ টাকা, বিয়েতে উপহার হিসেবে পাওয়া ৪০ ভরি সোনা, ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকার গৃহস্থালি সামগ্রী। বর্তমানে তাঁর হাতে নগদ ৪৭ লাখ টাকা রয়েছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, সঞ্চয়পত্র বা স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ ২০ লাখ টাকা, সাড়ে ৭ লাখ টাকার একটি মাইক্রোবাস, ১৩০ ভরি সোনা (বিয়েতে উপহার ও উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া), ৪ লাখ টাকার গৃহস্থালি সামগ্রী ও ব্যবসায় ৪০ লাখ টাকার বিনিয়োগ।
এবারের হলফনামায় ফরহাদ হোসেন আয়ের বিভিন্ন খাত উল্লেখ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, কৃষি থেকে তাঁর বছরে আয় ২৫ লাখ ১৮ হাজার টাকা; ব্যবসা থেকে ১৭ লাখ ৭৯ হাজার ৩৭৪ টাকা; শেয়ারবাজার ও ব্যাংক আমানত থেকে ৪ লাখ ২৮ হাজার ২০১ টাকা এবং পারিশ্রমিক, ভাতা, সম্মানি হিসেবে ২৯ লাখ ৭৬ হাজার ২৭৫ টাকা আয় করেন।
https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/acuem30m12
জুলাই ঘোষণাপত্র
১। যেহেতু উপনিবেশ বিরোধী লড়াইয়ের সুদীর্ঘকালের ধারাবাহিকতায় এই ভূখণ্ডের মানুষ দীর্ঘ ২৩ বছর পাকিস্তানের স্বৈরশাসকদের বঞ্চনা ও শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল এবং নির্বিচার গণহত্যার বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা করে জাতীয় মুক্তির লক্ষ্যে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিল;
এবং
২। যেহেতু, বাংলাদেশের আপামর জনগণ দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এই ভূখণ্ডে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে বিবৃত সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের ভিত্তিতে উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়নের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছে;
এবং
৩। যেহেতু স্বাধীন বাংলাদেশের ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়ন পদ্ধতি, এর কাঠামোগত দুর্বলতা ও অপপ্রয়োগের ফলে স্বাধীনতা-পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকার মুক্তিযুদ্ধের জন আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়েছিল এবং গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা ক্ষুণ্ন করেছিল;
এবং
৪। যেহেতু স্বাধীনতা-পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকার স্বাধীনতার মূলমন্ত্র গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার বিপরীতে বাকশালের নামে সাংবিধানিকভাবে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করে এবং মতপ্রকাশ ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হরণ করে, যার প্রতিক্রিয়ায় ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর দেশে সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লব সংঘটিত হয় এবং পরবর্তী সময়ে একদলীয় বাকশাল পদ্ধতির পরিবর্তে বহুদলীয় গণতন্ত্র, মতপ্রকাশ ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পুনঃপ্রবর্তনের পথ সুগম হয়,
এবং
৫। যেহেতু আশির দশকে সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ নয় বছর ছাত্র-জনতার অবিরাম সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয় এবং ১৯৯১ ইং সনে পুনরায় সংসদীয় গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়।
এবং
৬। যেহেতু দেশি-বিদেশি চক্রান্তে সরকার পরিবর্তনের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ায় ১ / ১১-এর ষড়যন্ত্রমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার একচ্ছত্র ক্ষমতা, আধিপত্য ও ফ্যাসিবাদের পথ সুগম করা হয়;
এবং
৭। যেহেতু গত দীর্ঘ ষোলো বছরের ফ্যাসিবাদী, অগণতান্ত্রিক এবং গণবিরোধী শাসনব্যবস্থা কায়েমের লক্ষ্যে এবং একদলীয় রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অতি উগ্র বাসনা চরিতার্থ করার অভিপ্রায়ে সংবিধানের অবৈধ ও অগণতান্ত্রিক পরিবর্তন করা হয় এবং যার ফলে একদলীয় একচ্ছত্র ক্ষমতা ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়;
এবং
৮। যেহেতু শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের দুঃশাসন, গুম-খুন, আইন-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ এবং একদলীয় স্বার্থে সংবিধান সংশোধন ও পরিবর্তন বাংলাদেশের সকল রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে ধ্বংস করে;
এবং
৯। যেহেতু, হাসিনা সরকারের আমলে তারই নেতৃত্বে একটি চরম গণবিরোধী, একনায়কতান্ত্রিক, ও মানবাধিকার হরণকারী শক্তি বাংলাদেশকে একটি ফ্যাসিবাদী, মাফিয়া এবং ব্যর্থ রাষ্ট্রের রূপ দিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে;
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। আজ মঙ্গলবার (৫ আগস্ট, ২০২৫) রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। আজ মঙ্গলবার (৫ আগস্ট, ২০২৫) রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতেছবি: দীপু মালাকার
এবং
১০। যেহেতু, তথাকথিত উন্নয়নের নামে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী নেতৃত্বে সীমাহীন দুর্নীতি, ব্যাংক লুট, অর্থ পাচার ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংসের মধ্য দিয়ে বিগত পতিত দুর্নীতিবাজ আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশ ও এর অমিত অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে বিপর্যস্ত করে তোলে এবং এর পরিবেশ, প্রাণবৈচিত্র্য ও জলবায়ুকে বিপন্ন করে;
এবং
১১। যেহেতু শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দল, ছাত্র ও শ্রমিক সংগঠনসহ সমাজের সর্বস্তরের জনগণ গত প্রায় ষোলো বছর যাবৎ নিরন্তর গণতান্ত্রিক সংগ্রাম করে জেল-জুলুম, হামলা-মামলা, গুম-খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়;
এবং
১২। যেহেতু বাংলাদেশে বিদেশি রাষ্ট্রের অন্যায় প্রভুত্ব, শোষণ ও খবরদারিত্বের বিরুদ্ধে এ দেশের মানুষের ন্যায়সংগত আন্দোলনকে বহিঃশক্তির তাঁবেদার আওয়ামী লীগ সরকার নিষ্ঠুর শক্তিপ্রয়োগের মাধ্যমে দমন করে;
এবং
১৩। যেহেতু অবৈধভাবে ক্ষমতা অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগ সরকার তিনটি প্রহসনের নির্বাচনে (২০১৪,২০১৮ ও ২০২৪ এর জাতীয় সংসদ নির্বাচন) এ দেশের মানুষকে ভোটাধিকার ও প্রতিনিধিত্ব থেকে বঞ্চিত করে;
এবং
১৪। যেহেতু, আওয়ামী লীগ আমলে ভিন্নমতের রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, শিক্ষার্থী ও তরুণদের নিষ্ঠুরভাবে নির্যাতন করা হয় এবং সরকারি চাকরিতে একচেটিয়া দলীয় নিয়োগ ও কোটাভিত্তিক বৈষম্যের কারণে ছাত্র, চাকরি প্রত্যাশী ও নাগরিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের জন্ম হয়;
এবং
১৫। যেহেতু বিরোধী রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের ওপর চরম নিপীড়নের ফলে দীর্ঘদিন ধরে জনরোষের সৃষ্টি হয় এবং জনগণ সকল বৈধ প্রক্রিয়া অবলম্বন করে ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াই চালিয়ে যায়;
এবং
১৬। যেহেতু, সরকারি চাকরিতে বৈষম্যমূলক কোটাব্যবস্থার বিলোপ ও দুর্নীতি প্রতিরোধে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক ব্যাপক দমন-পীড়ন, বর্বর অত্যাচার ও মানবতাবিরোধী হত্যাকাণ্ড চালানো হয়, যার ফলে সারা দেশে দল-মত নির্বিশেষে ছাত্র-জনতার উত্তাল গণবিক্ষোভ গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়;
এবং
১৭। যেহেতু ফ্যাসিস্ট শক্তির বিরুদ্ধে অদম্য ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক দল, ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী, শ্রমিক সংগঠনসহ সমাজের সকল স্তরের মানুষ যোগদান করে এবং আওয়ামী ফ্যাসিবাদী বাহিনী রাজপথে নারী-শিশুসহ প্রায় এক হাজার মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করে, অগণিত মানুষ পঙ্গুত্ব ও অন্ধত্ব বরণ করে এবং আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে সামরিক বাহিনীর সদস্যগণ জনগণের গণতান্ত্রিক লড়াইকে সমর্থন প্রদান করে;
এবং
১৮। যেহেতু, অবৈধ শেখ হাসিনা সরকারের পতন, ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের লক্ষ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে জনগণ অসহযোগ আন্দোলন শুরু করে, পরবর্তী সময়ে ৫ আগস্ট ঢাকা অভিমুখে লংমার্চ পরিচালনা করে এবং ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনরত সকল রাজনৈতিক দল, ছাত্র-জনতা তথা সর্বস্তরের সকল শ্রেণি, পেশার আপামর জনসাধারণের তীব্র আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে গণভবনমুখী জনতার উত্তাল যাত্রার মুখে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়;
এবং
১৯। যেহেতু বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট মোকাবিলায় গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ব্যক্ত জনগণের সার্বভৌমত্বের প্রত্যয় ও প্রয়োগ রাজনৈতিক ও আইনি উভয় দিক থেকে যুক্তিসংগত, বৈধ ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত;
এবং
২০। যেহেতু জনগণের দাবি অনুযায়ী এরপর অবৈধ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়া হয় এবং সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে সুপ্রিম কোর্টের মতামতের আলোকে সাংবিধানিকভাবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে ৮ আগস্ট ২০২৪ তারিখে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়;
এবং
২১। যেহেতু, বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণের ফ্যাসিবাদবিরোধী তীব্র আকাঙ্ক্ষা এবং ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদ, বৈষম্য ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্র বিনির্মাণের অভিপ্রায় প্রকাশিত হয়;
এবং
২২। সেহেতু, বাংলাদেশের জনগণ সুশাসন ও সুষ্ঠু নির্বাচন, ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি রোধ, আইনের শাসন এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে বিদ্যমান সংবিধান ও সকল রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের গণতান্ত্রিক সংস্কার সাধনের অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে;
এবং
২৩। সেহেতু, বাংলাদেশের জনগণ বিগত ষোলো বছরের দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রাম কালে এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালীন সময়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক সংঘটিত গুম-খুন, হত্যা, গণহত্যা, মানবতা বিরোধী অপরাধ ও সকল ধরনের নির্যাতন, নিপীড়ন এবং রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি লুণ্ঠনের অপরাধসমূহের দ্রুত উপযুক্ত বিচারের দৃঢ় অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে;
এবং
২৪। সেহেতু, বাংলাদেশের জনগণ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সকল শহীদদের জাতীয় বীর হিসেবে ঘোষণা করে শহীদদের পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং আন্দোলনকারী ছাত্রজনতাকে প্রয়োজনীয় সকল আইনি সুরক্ষা দেওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে।
এবং
২৫। সেহেতু, বাংলাদেশের জনগণ যুক্তিসংগত সময়ে আয়োজিতব্য অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ একটি নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত জাতীয় সংসদে প্রতিশ্রুত প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কারের মাধ্যমে দেশের মানুষের প্রত্যাশা, বিশেষত তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী আইনের শাসন ও মানবাধিকার, দুর্নীতি, শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন ও মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে।এবং
২৬। সেহেতু বাংলাদেশের জনগণ এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছে যে একটি পরিবেশ ও জলবায়ু সহিষ্ণু অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়ন কৌশলের মাধ্যমে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার সংরক্ষিত হবে।
এবং
২৭। বাংলাদেশের জনগণ এই অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে যে, ছাত্র-গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪-এর উপযুক্ত রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করা হবে এবং পরবর্তী নির্বাচনে নির্বাচিত সরকারের সংস্কারকৃত সংবিধানের তফসিলে এ ঘোষণাপত্র সন্নিবেশিত থাকবে।
এবং
২৮। ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানে বিজয়ী বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে এই ঘোষণাপত্র প্রণয়ন করা হলো।
Thursday, April 18, 2024
ফরহাদ হোসেন মন্ত্রী হওয়ায় মেহেরপুরে আনন্দের বন্যা
১১ জানুয়ারি ২০২৪, ২০:৪১
ফরহাদ হোসেন মেহেরপুর-১ আসন থেকে টানা তিন বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে জয়ের পর পূর্ণ মন্ত্রী হয়ে পুনরায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন
২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনে জয়ের পর জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান এ রাজনীতিবিদ।
বাংলাদেশের প্রথম রাজধানী মুজিবনগরের মেহেরপুরে এই প্রথম মন্ত্রী হলেন। এই খবরে তার বাড়ির সামনে হাজারো মানুষ ভিড় করে। শুরু হয় মিষ্টি বিতরণ।
ফরহাদ হোসেন এমপি থাকাকালে ব্যাপক উন্নয়ন ছাড়াও মেহেরপুরকে সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত জেলা গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
এমপি ফরহাদ হোসেন দোদুলের পিতা প্রয়াত মোহাম্মদ সহিউদ্দিন মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। তিনি ১৯৭০ সালে মেহেরপুর থেকে তৎকালীন পাকিস্থান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম সংগঠক প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
১৯৭৩ সালে মোহাম্মদ সহিউদ্দিন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে মেহেরপুর আসন থেকে নির্বাচিত হন এবং ৭৫ সালে মেহেরপুর জেলার গর্ভনর নিযুক্ত হন। তিনি ৮৬ সালেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
এই অঞ্চলের অবিসংবাদিত নেতা ৬৭ বছর বয়সে ১৯৯০ সালে মৃত্যু বরণ করেন। তিনি ছিলেন মেহেরপুরর অজাতশত্রু।
প্রয়াত সহিউদ্দীনের তৃতীয় পুত্র ফরহাদ হোসেন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২য় বারের মতো এমপি নির্বাচিত হন। তিনি ঢাকা সিটি কলেজের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন।
Wednesday, December 7, 2022
Thursday, June 16, 2022
মেহেরপুর পৌরসভাসহ ইউপিতে নৌকা ৩ একটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী
মেহেরপুর পৌরসভা নির্বাচনে মাহফুজুর রহমান রিটন বিপুল ভোটে দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়াও ৪ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনটিতে নৌকা এবং একটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয় লাভ করেছেন।
মেহেরপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মনোনিত নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী মাহফুজুর রহমান রিটন পেয়েছেন ১৫ হাজার ৪৬১ ভোট। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক মেয়র মোতাচ্ছিম বিল্লাহ মতু নারকেল গাছ প্রতীকে পেয়েছেন ৭ হাজার ৪৪৬ ভোট।
এদিকে, আমঝুপি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনিত ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বোরহান উদ্দীন চুন্নু দ্বিতীয়বারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি নৌকা প্রতীকে নিয়ে পেয়েছেন ৮ হাজার ৫২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শফিকুল ইসলাম ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৭ হাজার ৪৬৫ ভোট।
পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি দ্বিতীয়বারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে আব্দুস সামাদ বাবলু বিশ্বাস।
তিনি নৌকা প্রতীকে তিনি ৮ হাজার ৫৩ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুস সালাম আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ২১০ ভোট।
নবগঠিত বারাদী ইউনিয়নে প্রথমবারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোমিনুল ইসলাম। নৌকা প্রতীকে তিনি ৫ হাজার ৩২ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আরমান আলী ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ৮৫৪ ভোট।
এছাড়া শ্যামপুর ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী মতিয়ার রহমান চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। চশমা প্রতীকে তিনি ৬ হাজার চার ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হাসেম আলী ঘোড়া প্রতীকে ৩ হাজার ২৩১ ভোট পেয়েছেন।
টানা দ্বিতীয় মেয়াদে নগরপিতা হলেন মাহফুজুর রহমান রিটন
জুন ১৫, ২০২২
মেহেরপুর পৌরসভা নির্বাচনে ৮০১৫ ভোটের ব্যাবধানে মাহফুজুর হমান রিটন পুন: নির্বাচিত হয়েছেন। মাহফুজুর রহমান রিটন নৌকা প্রতিক নিয়ে ১৫৪৬১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকট তম প্রতিদ্বন্ধী একমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী মোতাছিম বিল্লাহ মতু (নারকেল গাছ) ৭৪৪৬ ভোট পেয়েছেন।
মেহেরপুর পৌরসভার ৯ টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ৩৪ হাজার ৭৮৪ জন। এদের মধ্যে নারী ভোটার সংখ্যা ১৮ হাজার ১৫ ও পুরুষ ভোটার সংখ্যা ১৬ হাজার ৭৬৯ জন। পৌরসভায় ১ হাজার ২৪৬ জন নারী ভোটার বেশী পুরুষের তুলনায়।
মেহেরপুর জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ আবু আনছার জানান, এরই মধ্যে সার্বিক প্রস্ততি শেষ হয়েছে। আশা করছি একটি অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সব ঠিকঠাক থাকলে কাল সকাল থেকে ভোটাররা কেন্দ্রে গিয়ে ভয়ভীতির উর্দ্ধে থেকে পছন্দের প্রার্থীদের ভোট দিবে।
পৌরসভায় সাধারণ সদস্য পদে ৪৩ ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করবেন
মেহেরপুর পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী মাহফুজুর রহমান রিটন (নৌকা) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মোতাচ্ছিম বিল্লাহ মতু (নারিকেল গাছ) প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।এছাড়া ১ নং ওয়ার্ডে মোয়াজ্জেম হোসেন (টেবিল ল্যাম্প) মীর জাহাঙ্গীর আলম (পানির বোতল) গোলাম ফারুক (পাঞ্জাবী), রাজীব আহম্মেদ (ডালিম), রাশেদুজ্জামান (উটপাখি) ২ নং ওয়ার্ডে সঞ্জয় কুমার শাহ (উটপাখি), আল মামুন (টেবিল ল্যাম্প), তপন কুমার (পাঞ্জাবী), ওয়াসিম খান (ব্লাকবোর্ড), শফিকুল ইসলাম (ডালিম), ইয়াসিন আলী শামীম হোসেন (পানির বোতল), তিন নং ওয়ার্ড ইনছান আলী (টেবিল ল্যাম্প), শাকিল রাব্বী ইভান (ডালিম), সৈয়দ আবু আব্দুল্লাহ (পানির বোতল), জাহাঙ্গীর আলম (উটপাখি), ৪ নং ওয়ার্ড আব্দুর রহিম (পানির বোতল), নুরুল ইসলাম (ডালিম), রিয়াজ উদ্দীন (উটপাখি) ৫ নং ওয়ার্ড হাসেম আলী (উটপাখি), এসএম আবুল হাসনাত (পানির বোতল), শরিফুল ইসলাম (টেবিল ল্যাম্প), আক্তারুল ইসলাম (পাঞ্জাবী), মোস্তাক আহম্মেদ (ব্রীজ), ৬ নং ওয়ার্ড সৈয়দ মুঞ্জুরুল হাসান (পানির বোতল), শামীম রেজা (টেবিল ল্যাম্প), বোরহানুল াাযীম (উটপাখি), শাহিনুর রহমান (পাঞ্জাবী), ৭ নং ওয়ার্ডে এসএম ফিরোজুর রহমান (পাঞ্জাবী), নুরুল আশরাফ রাজীব (উটপাখি),মনিরুল ইসলাম (পানির বোতল), ইলিয়াস হোসেন (গাজর), তারিকুল ইসলাম (টেবিল ল্যাম্প) ৮ নং ওয়ার্ড খন্দকার শফিউল কবীর (পাঞ্জাবী), সৈয়দ মুঞ্জুরুল কবীর (ডালিম), একে শাকিল আহম্মেদ (পানির বোতল), আব্দুস সাত্তার (ব্রীজ), সাখাওয়াত হোসেন (টেবিল ল্যাম্প), মতিয়ার রহমান (গাজর), নাজমুল হাসান (ব্লাকবোর্ড), রিন্টু রহমান (উটপাখি), ৯ নং ওয়ার্ড সোহেল রানা ডলার ( পানির বোতল),মোহাম্মদ বিন কাশেম (উটপাখি), আমিরুল ইসলাম (টেবিল ল্যাম্প)এছাড়া সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১ নং ওয়ার্ড ইতি বেগম (বলপেন), আল্পনা খাতুন (জবা ফুল), দিল আফরোজ (চশমা),মনোয়ারা খাতুন (আনারশ), ২ নং ওয়ার্ড শিউলী আক্তার (জবা ফুল), ফিরোজা খাতুন (চশমা), মোমেনা বেগম (আঙটি), বিলকিস খাতুন (আনারস) পলি খাতুন (অটোরিকসা), আফরোজা আক্তার (টেলিফোন), শারমীন আক্তার (বলপেন) খাদিজা বেগম (দ্বিতল বাস), ৩ নং ওয়ার্ড সীমা চৌধুরী (জবা ফুল), হামিদা খাতুন (চশমা), রোকসানা (আনারস)প্রতিকে ভোট করছেন।
মেহেরপুর পৌরসভায় মোট ২০ টি ভোট কেন্দ্রে ১২২ টি কক্ষে ভোট গ্রহণ চলবে।
১ নং ওয়ার্ডে ভোট কেন্দ্র মিশন প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভোটার সংখ্যা ১৩৩০ জন, গ্লোরিয়াস প্রি ক্যাডেট একাডেমী ভোট কেন্দ্র, ভোট সংখ্যা ২০১৮ জন ও নতুনপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে মোট ভোটার ১৬৮১ জন।, ২ নং ওয়ার্ডে সরকারী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় দক্ষিণ ভবন ভোট কেন্দ্রে ভোট সংখ্যা ১৮৮৯ জন, সরকারী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় উত্তর পশ্চিম ভবন ভোট কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ১৮৪৪ জন।, ৩ নং ওয়ার্ডে তাঁতীপাড়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসা দক্ষিণ ভবন ভোট কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ১৪৩৮ জন, তাঁতীপাড়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসা উত্তর ভবন ভোট কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ১৫২৮ জন, ৪ নং ওয়ার্ড শেখপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ১৫৮৪ জন, সহি উদ্দীন ডিগ্রী কলেজ ভোট কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ২১১১ জন, কালাচাঁদপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ১৪৩০ জন। ৫ নং ওয়ার্ডে হোলি পাবলিক প্রি ক্যাডেট এন্ড জুনিয়র হাইস্কুল ভোট কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ১১৮২ জন, দীঘিরপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ২২১৯ জন, ৬ নং ওয়ার্ড বড়বাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ১৬৪২ জন, পৌর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে মোট ভোটার সংথ্যা ১২২২ জন। ৭ নং ওয়ার্ড, সরকারী উচ্চ বালক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে (পশ্চিম ভবন) মোট ভোটার ২৪৬৭ জন, সরকারী উচ্চ বালক বিদ্যালয় পূর্ব ভবন ভোট কেন্দ্রে ভোট সংখ্যা ২৬৪৫ জন, ৮ নং ওয়ার্ড মেহেরপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্র নতুন ভবন, ভোটার সংখ্যা ১৪৫৯ জন, একই কেন্দ্রের পুরাতন ভবন ভোট কেন্দ্রে মোট ভোটার ১৫৯৩ জন, ৯ নং ওয়ার্ড মেহেরপুর দারুল উলুম আহমাদীয় ফাজিল মাদ্রাসা এক নং ভোট কেন্দ্রে মোট ভোটার ১৭৭৬ জন ও একই কেন্দ্রের ভোটার সংখ্যা ১৯২৬ জন।
তিনটি ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর ভোট ১ নং ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ১১৫২৮ জন, ২ নং ওয়ার্ডে ১১৩৯০ জন ও ৩ নং ওয়ার্ডে ১১৮৬৬ জন।
Wednesday, March 23, 2022
ধর্ষণের অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কৃত ছাত্র ইউনিয়ন নেতা আকিফ
২১ মার্চ ২০২২, ০৭ চৈত্র ১৪২৮, ১৭ শাবান ১৪৪৩, নয়া দিগন্ত
ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে সংগঠন থেকে বহিষ্কার হয়েছেন ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আকিফ আহমেদ।
গত ২০ মার্চ দায়ের অভিযোগ ও অভিযুক্তের স্বীকারোক্তিমূলক পদত্যাগপত্রের ভিত্তিতে সোমবার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এ বহিষ্কারাদেশ দেন সংগঠনটির উর্ধ্বতন নেতারা।
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে লিখিত বহিষ্কারাদেশে অভিযোগ এবং স্বীকারোক্তি বিবেচনায় ছাত্র ইউনিয়ন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের ৩৪তম কার্যনির্বাহী পরিষদের দ্বিতীয় সভায় গঠনতন্ত্রের ধারা মোতাবেক অভিযুক্ত আকিফ আহমেদকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সিদ্ধান্ত মোতাবেক, সংগঠনের যেকোনো স্তরের যেকোনো কার্যক্রমের সাথে অভিযুক্ত আকিফ আহমেদের সংশ্লিষ্টতা অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
অভিযোগকারী আগামীতে যেকোনো (আইনি) পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চাইলে ছাত্র ইউনিয়ন সর্বোচ্চ সহযোগিতামূলক আচরণ প্রদর্শন করবে বলেও জানানো হয়।
বিষয়টি সম্পর্কে অভিযুক্ত আকিফ আহমেদ বলেন, এক বছর আগে তার সাথে আমার প্রেমের সম্পর্ক থাকাকালে এমন কিছু হয়েছিল। পরবর্তীতে আমরা আবার রিলেশনে যাই এবং দু’জনের মাঝে বনাবনি না হওয়ায় ২ মাস আগে আবার সম্পর্কচ্ছেদ হয়। এখন তার অন্য একটা ছেলের সাথে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে যার সাথে আমার ছাত্র ইউনিয়ন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদের বিরোধ রয়েছে। তাই বলা যায়, ছাত্র ইউনিয়নে আমার দায়িত্ব গ্রহণের এ সময়ে এক বছরের পুরনো বিষয়ে অভিযোগ আনার পেছনে কোনো তৃতীয় ব্যক্তির স্বার্থ জড়িত থাকতে পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখলে অনেক কিছুই বের হয়ে আসবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক আদনান বলেন, এক বছরের পুরনো হোক আর ১০ বছর হোক, ভুক্তভোগী যেকোনো সময় চাইলে অভিযোগ করতে পারে। এখন এ বিষয়ে আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ এসেছে এবং একইসাথে অভিযুক্তের লিখিত পদত্যাগপত্রও এসেছে। এ দু’য়ের সমন্বয়ে বিষয়টা পরিষ্কার হয়ে ওঠে যে, অভিযুক্ত আসলেই অপরাধী। তাই সাংগঠনিক জায়গা থেকে তাকে বহিষ্কার করা ছাড়া কোনো উপায় ছিল না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি শিমুল কুম্বকার বলেন, আমরা একটা অভিযোগ পেয়েছি এবং অভিযুক্ত তার দায় স্বীকার করেছেন। অভিযোগ ও অভিযুক্তর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আমরা সাংগঠনিক প্রক্রিয়ায় তাকে বহিষ্কার করেছি।
এক বছরের পুরনো ঘটনা টেনে এনে অন্য কেউ এখানে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হ্যাঁ, এখানে এমন কিছু থাকতেই পারে। তবে অভিযুক্তের স্বীকারোক্তির কারণে আমাদের সেই বিষয়ে তদন্তের পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। ফলে আমরা আমাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে বাধ্য হই।
উল্লেখ্য যে : আকিফ আহমেদ মেহেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ অরুন এর ভাই মেহেরপুর সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এবং মেহেরপুর সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মারুফ হোসেন বিজনের একমাত্র ছেলে
Thursday, March 10, 2022
মেহেরপুরে যুবলীগ নেতা বিপুল হত্যা মামলার সব আসামি খালাস
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২,
মেহেরপুর পৌরসভার কাউন্সিলর ও জেলা যুবলীগ নেতা আবদুল্লাহ আল মামুন বিপুল হত্যা মামলার সব আসামিকেই বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মেহেরপুর জেলা ও দায়রা জজ মো. ওয়ালিউল ইসলাম এ আদেশ দেন।
খালাসপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি সাজ্জাদুল আনাম, যুবলীগ নেতা ইয়ানুস শেখ, মাহফুজ আলী, আফজাল হোসেন ও বাদশা মিয়া।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২৮ জানুয়ারি সোমবার দিবাগত রাত ১০টার দিকে মেহেরপুর শহরের কাসারি পাড়ায় জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক (সাবেক সহপ্রচার সম্পাদক) শহিদুল ইসলামের বাড়িতে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে জেলা যুবলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৎকালীন কাউন্সিলর আবদুল্লাহ আল মামুন বিপুল যোগ দেন। অনুষ্ঠান চলাকালে অজ্ঞাতনামা চার-পাঁচজন অস্ত্রধারী ব্যক্তি সেখানে প্রবেশ করে তাঁকে লক্ষ্য করে পরপর তিনটি গুলি করেন। এতে তাঁর মাথা ও বুকে গুলি লাগে। তাঁকে উদ্ধার করে জেনারেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
অনুষ্ঠান চলাকালে অজ্ঞাতনামা চার-পাঁচজন অস্ত্রধারী ব্যক্তি এসে কাউন্সিলর আবদুল্লাহ আল মামুনকে লক্ষ্য করে পরপর তিনটি গুলি করেন। এতে তাঁর মাথা ও বুকে গুলি লাগে।
এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিপুলের স্ত্রী বিলকিস আরা বেলী বাদী হয়ে দুদিন পর জেলা মেহেরপুর যুবলীগের তৎকালীন সভাপতি সাজ্জাদুল অনাম, অর্থ সম্পাদক ও বর্তমান পৌর মেয়র মাহাফুজুর রহমান, শহিদুল ইসলামসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে পৌর মেয়র মাহফুজুর রহমান ও তাঁর শ্যালক আরিফুর রহমান, জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি সাজ্জাদুল আনামকে অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়া হয়। পরে মামলা সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হলে শহিদুল ইসলাম, তাঁর ভাই বাদশা, ইয়ানুস, আফজাল, মাহফুজ ও জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি সাজ্জাদুল আনামকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন পল্লব ভট্টাচার্য। আসামিপক্ষে ইয়ারুল ইসলাম, কামরুল ইসলামসহ একাধিক আইনজীবী মামলা পরিচালনা করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী ইয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা রায়ে সন্তুষ্ট।’ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পল্লব ভট্টাচার্য বলেন, ‘বিচারক অভিযোগপত্রভুক্ত ছয় আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন। আমরা রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পেলে পরবর্তীকালে আপিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’
Friday, September 24, 2021
বিশ্বখ্যাত কার্ডিওলজিস্ট শহীদ অধ্যাপক ডাঃ ফজলে রাব্বি।
লেখক : Dr. Zafrullah Chowdhury স্যার এর ফেসবুক পোস্ট থেকে নেওয়া
এই ফজলে রাব্বি তিনি, সমগ্র পাকিস্তানকে সাত বার আটি দরে বিক্রি করলেও তাঁর মস্তিষ্কের দাম উঠবে না৷ সেই ফজলে রাব্বি তিনি যিনি হতে পারতেন বাংলাদেশের প্রথম নোবেলজয়ী চিকিৎসা বিজ্ঞানী।তিনি ছিলেন ঢাকা মেডিকেলের এমবিবিএস চূড়ান্ত পরীক্ষায় শীর্ষস্থান অধিকারী ছাত্র। মাত্র ৩২ বছর বয়সে ১৯৬৪ সালে মেডিসিনের উপর তাঁর বিখ্যাত কেস স্টাডি 'A case of congenital hyperbilirubinaemia ( DUBIN-JOHNSON SYNDROME) in Pakistan' প্রকাশিত হয়েছিলে বিশ্বখ্যাত গবেষণা জার্নাল 'জার্নাল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিন হাইজিন' এ।
মাত্র ৩৮ বছর বয়সে ১৯৭০ সালে তাঁর বিশ্বখ্যাত গবেষণা Spirometry in tropical pulmonary eosinophilia প্রকাশিত হয়েছিলো ব্রিটিশ জার্নাল অফ দা ডিসিস অফ চেস্ট ও ল্যান্সেট এ।
১৯৭০ সালে মাত্র ৩৮ বছর বয়সেই ডাঃ ফজলে রাব্বি মনোনীত হয়েছিলেন পাকিস্তানের সেরা অধ্যাপক পুরস্কারের জন্য। কিন্তু তাঁর আত্মায় ছিলো বাংলার অসহায়র্ত মানুষ। ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করেছিলেন তিনি সেই পুরুষ্কার।
মাত্র ৩৯ বছর বয়সী ডা. মোহাম্মদ ফজলে রাব্বি ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রফেসর অব ক্লিনিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড কার্ডিওলজিস্ট। আজকের দিনে কল্পনা করা যায়?
মুক্তিযুদ্ধের পুরোটা সময় তিনি আহত মানুষদের সেবা দিয়েছেন মেডিকেলে বসে। বেশ কয়েকদফা নিজের সাধ্যের চেয়ে বেশী ঔষধ আর অর্থ সহায়তা দিয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য। আহত মুক্তিযোদ্ধাদের পরিচয় গোপন রেখে দিয়েছিলেন চিকিৎসাও।
মুক্তিযুদ্ধের ১৩ ও ১৪ ডিসেম্বর ডাঃ ফজলে রাব্বির স্ত্রী জাহানারা রাব্বী একই স্বপ্ন দুবার দেখলেন। স্বপ্নটা এমন একটা সাদা সুতির চাদর গায়ে তিনি তিন ছেলেমেয়েকে নিয়ে জিয়ারত করছেন এমন একটা জায়গায়, যেখানে চারটা কালো থামের মাঝখানে সাদা চাদরে ঘেরা কী যেন।
১৫ই ডিসেম্বর সকালে জাহানারা রাব্বী এ স্বপ্নের কথা বললেন ফজলে রাব্বিকে। রাব্বি বললেন, ‘তুমি বোধ হয় আমার কবর দেখেছ’। ভয় পেলেন জাহানারা রাব্বি। টেলিফোন টেনে পরিচিত অধ্যাপকদের বাড়িতে ফোন করতে বললেন।
ফজলে রাব্বি ফোন করলেন, কিন্তু কাউকেও লাইনে পাওয়া যাচ্ছেনা।
আকাশে তখন ভারতীয় যুদ্ধবিমান। রকেট, শেলের শব্দে কান ঝালাপালা। সকাল ১০টায় ২ ঘন্টার জন্য কারফিউ উঠলো। ফজলে রাব্বি স্ত্রীকে বললেন, 'একজন অবাঙালি রোগী দেখতে যাবো পুরান ঢাকায়।' যেতে মানা করলেন জাহানারা রাব্বি।
ফজলে রাব্বি কথার এক প্রসঙ্গে বলেছিলেন ‘ভুলে যেয়ো না, ওরাও মানুষ।’
সেদিন তিনি ফিরেছিলেন কারফিউ শুরু হওয়ার আগেই।
দুপুরের খাবার ছিলো আগের দিনের বাসি তরকারি। কিন্তু ফজলে রাব্বি উল্টো বলেছিলেন, ‘আজকের দিনে এত ভালো খাবার খেলাম।’
জাহানারা রাব্বি দেখলেন এখানে থাকা বিপজ্জনক। তিনি বললেন, চলো চলে যাই। ফজলে রাব্বি বলেছিলেন 'আচ্ছা, দুপুরটা একটু গড়িয়ে নিই।’
কিছুক্ষণ পর বাবুর্চি এসে বললো ‘সাহেব, বাড়ি ঘিরে ফেলেছে ওরা।’
বাইরে তখন কাদালেপা মাইক্রোবাস দাঁড়িয়ে। মাইক্রোবাসের সামনে রাজাকার, আলবদর আর হানাদারেরা।
খুব হালকা স্বরে ফজলে রাব্বি জাহানারা রাব্বিকে বলেছিলেন, ‘আমাকে নিতে এসেছে।’ এরপর
দারোয়ানকে গেট খুলে দিতে বলেছিলেন তিনি। যখন মাইক্রোবাসে তিনি উঠলেন তখন সময় ঘড়িতে বিকেল চারটা।
১৮ই ডিসেম্বর ডাঃ ফজলে রাব্বির লাশটি পাওয়া গিয়েছিলো রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে। দুই চোখ উপড়ানো। সমগ্র শরীরে জুড়ে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে আঘাতের চিহ্ন। দু হাত পিছনে গামছা দিয়ে বাঁধা। লুঙ্গিটা উরুর উপরে আটকানো। তাঁর হৃদপিন্ড আর কলিজাটা ছিঁড়ে ফেলেছে হানাদার ও নিকৃষ্ট আলবদরেরা।
এই সেই ডাঃ ফজলে রাব্বি, যাঁর গোটা হৃদয় জুড়ে ছিলো বাংলাদেশ আর অসহায়র্ত মানুষ। যার হৃদয় জুড়ে ছিলো স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন। হানাদার ও আল বদরের ঘৃণ্য নরপিশাচেরা সেই হৃদয়কে ছিঁড়ে ফেললেই কি সমগ্র বাংলার মানুষের হৃদয় থেকে কি তাঁকে বিছিন্ন করা যায়। যায়না। হাজার বছর পরেও ডাঃ ফজলে রাব্বি থাকবেন আমাদের প্রাণে, হৃদয়ের গহীনে।
আজ কিংবদন্তি চিকিৎসক ও বুদ্ধিজীবি শহীদ অধ্যাপক ডাঃ ফজলে রাব্বির জন্মদিন। জন্মদিনে নতচিত্তে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করি এই কিংবদন্তি চিকিৎসককে। আমাদের ফজলে রাব্বিকে আল্লাহ যেন বেহেশত নসীব করেন - আমীন
Wednesday, May 19, 2021
ইউপি সোহেল রানা গাজাসহ হাতে নাতে ধরা ও গণধোলাই (ভিডিও)
০১ নং কুতুবপুর ইউনিয়নের ০৮ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সোহেল রানা মেম্বার পিতা মোঃ সাখাওয়াত বিশ^াস গাজাসহ হাত নাতে ধরা।
বিগত দুই দিন আগে কুতুবপুর ইউনিয়নের ০৮ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সোহেল রানা গাজাসহ ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা ০১ (এক) কেজি পরিমান গাজাসহ গ্রামবাসীর নিকট হাতে নাতে ধরা ও গণধোলাই এর স্বীকার হয়। সরজমিনে তার গ্রাম পরিদর্শন করে জানা যায় যে তিনি এই ব্যবসা অনেক দিন ধরে চলিয়ে আসছিলেন। এবং ইতিপূর্বে তার নামে মানব পাচার ও আদম ব্যবসার জন্য মেহেরপুর সদর থানায় কয় একটা মামলার আসামী। ইউপি সোহেল রানা জেলা সৈনিক লীগের সভাপতির দায়িত্বে আছেন।
Thursday, February 18, 2021
দেশের প্রথম শহীদ বুদ্ধিজীবি
জানুয়ারি ৬৯ এ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ সারা দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট পালন করে। এই ধর্মঘটে পুলিশ বাধা দেয় এবং ছাত্রদের ওপর চরম নির্যাতন চালায়। এর প্রতিবাদে ২০ জানুয়ারি ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে রাজপথে নেমে আসে। ছাত্রদের রাজপথের এই মিছিলে গুলি চলে। পুলিশের গুলিতে ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান ( শহীদ আসাদ ) আহত হন এবং হাসপাতালে নেয়ার পথেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুতে সমগ্র দেশে সূচিত হয় দুর্বার আন্দোলন, স্বাধীনতার আন্দোলন ।
এর মধ্যে ১৫ ফেব্রুয়ারি আগরতলার মামলার আসামি সার্জেন্ট জহুরুল হককে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দি অবস্থায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী গুলি করে হত্যা করে।
সার্জেন্ট জহুরুল হক হত্যার প্রতিবাদে সারা দেশের মত রাজশাহীর মানুষও ক্ষোভে ফেটে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য স্থানীয় প্রশাসন রাজশাহী শহরে ১৪৪ ধারা জারি করে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষার্থী সেদিন ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে রাজপথে নেমে পড়ে। এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে শুরু হয় সংঘর্ষ। এই সংঘর্ষে বেশ কিছু ছাত্র আহত হন। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে খবরটি প্রচারিত হলে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। জোহা স্যার খবরটি পাওয়ামাত্র এস এম হলের প্রভোস্ট ড. মাযহারুল ইসলাম স্যারকে সঙ্গে নিয়ে গাড়িতে করে তাত্ক্ষণিক ঘটনাস্থলে চলে আসেন। আহত ছাত্রদের ভ্যানে তুলে চিকিৎসার জন্য মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেদিন আহত ছাত্রদের রক্তে তার জামা ভিজে গিয়েছিল। তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে তিনি বলেছিলেন,
"কাল আবার এসে তোমাদের দেখে যাব"।
ঐদিন সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে চলছিল একুশের অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তিনি তাঁর শার্টে ছাত্রদের রক্তের দাগ দেখিয়ে বলিষ্ঠ কণ্ঠে বলেন,
"আহত ছাত্রদের রক্তের স্পর্শে আজ আমি গৌরবান্বিত। এরপর থেকে শুধু ছাত্রদের রক্ত নয় প্রয়োজনবোধে আমাদেরও রক্ত দিতে হবে। এরপর আর যদি কোনো গুলি করা হয়, কোনো ছাত্রের গায়ে লাগার আগে যেন সেই গুলি আমার বুকে এসে লাগে।"
১৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯। আনুমানিক বেলা তখন সাড়ে ৯টা, ছাত্রদের সঙ্গে পাকিস্তানি সৈন্যদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিয়ে এক উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তাঁর প্রিয় ছাত্রদের রক্ষায় জোহা স্যার আবার ছুটে এলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের কাছে, নাটোর রোডের ওপারে যেখানে প্রতিবাদী ছাত্রদের গুলি করার জন্য পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর জোয়ানরা রাইফেল তাক করে ছিল।
ড. শামসুজ্জোহা ( জোহা স্যার ) তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর। তিনি কর্মরত সামরিক কর্মকর্তাকে বলেন,
"প্লিজ ডোন্ট ফায়ার। আমার ছেলেরা এখনই ক্যাম্পাসের মধ্যে ফিরে যাবে।"
ছাত্ররা তখন তাঁদের প্রিয় স্যারের আদেশে ক্যাম্পাসে ফিরে যাচ্ছে, এমন সময় হঠাত্ গুলি। কেঁপে উঠল সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয়। পিছনে ফিরে তাকাতেই সবাই দেখল তাদের স্যার মাটিতে পড়ে চিৎকার করছেন -
"বর্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আমাকে গুলি করেছে।"
যে স্যার মাত্র গতকাল তার ছাত্রদের কথা দিয়েছিলেন, তিনি তার আহত ছাত্রদের আজ হাসপাতালে দেখতে যাবেন, তিনি তার সেই কথা রাখতে পারেন নি। তবে দ্বিতীয় গুলিটা যেন তার প্রিয় ছাত্রের গায়ে না লেগে তার গায়ে লাগে, সেই কথাটা কিন্তু তিনি ঠিকই রাখতে পেরেছিলেন। দেশের জন্য জীবন দিয়ে তিনি স্বাধীতার অনির্বাণ শিখায় রক্তাক্ত পলাশের নৈবেদ্য দিয়ে গেলেন।
এই দেশ, লাল সবুজের এই পতাকা, এই স্বাধীনতা - এ দেশের ছাত্র শিক্ষক কৃষাণ মজুর শ্রমিক সর্বস্তরের জনগণের ঘামে রক্তের বিনিময়ে অর্জিত। আমরা সশ্রদ্ধ সালাম জানাই সেই সব মহান শহীদদের। বঞ্চনা, অশিক্ষা, অপসংস্কৃতি, অবিচার ও গনতন্ত্রহীনতায় এই স্বাধীনতা যেন কোনোভাবে কলুষিত বা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা দেখা এবং রক্ষার দায়িত্বও দেশের আপামর জনগণ এবং বর্তমান প্রজন্মেরই।
শহীদ শামসুজ্জোহা হলের একজন প্রাক্তন আবাসিক ছাত্র হিসাবে আজকের এই স্মরণীয় ঐতিহাসিক দিনে নিজেকে গৌরান্বিত বোধ করছি। মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা আমাদের প্রিয় জোহা স্যারকে আপনি বেহেস্তের সর্বোচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত করুন।
লেখক : জিয়াউর রহমান খান লিটন , সাবেক যুগ্ম সচিব, শিল্প মন্ত্রণালয়






















