Thursday, March 10, 2022
মেহেরপুরে যুবলীগ নেতা বিপুল হত্যা মামলার সব আসামি খালাস
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২,
মেহেরপুর পৌরসভার কাউন্সিলর ও জেলা যুবলীগ নেতা আবদুল্লাহ আল মামুন বিপুল হত্যা মামলার সব আসামিকেই বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মেহেরপুর জেলা ও দায়রা জজ মো. ওয়ালিউল ইসলাম এ আদেশ দেন।
খালাসপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি সাজ্জাদুল আনাম, যুবলীগ নেতা ইয়ানুস শেখ, মাহফুজ আলী, আফজাল হোসেন ও বাদশা মিয়া।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২৮ জানুয়ারি সোমবার দিবাগত রাত ১০টার দিকে মেহেরপুর শহরের কাসারি পাড়ায় জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক (সাবেক সহপ্রচার সম্পাদক) শহিদুল ইসলামের বাড়িতে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে জেলা যুবলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৎকালীন কাউন্সিলর আবদুল্লাহ আল মামুন বিপুল যোগ দেন। অনুষ্ঠান চলাকালে অজ্ঞাতনামা চার-পাঁচজন অস্ত্রধারী ব্যক্তি সেখানে প্রবেশ করে তাঁকে লক্ষ্য করে পরপর তিনটি গুলি করেন। এতে তাঁর মাথা ও বুকে গুলি লাগে। তাঁকে উদ্ধার করে জেনারেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
অনুষ্ঠান চলাকালে অজ্ঞাতনামা চার-পাঁচজন অস্ত্রধারী ব্যক্তি এসে কাউন্সিলর আবদুল্লাহ আল মামুনকে লক্ষ্য করে পরপর তিনটি গুলি করেন। এতে তাঁর মাথা ও বুকে গুলি লাগে।
এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিপুলের স্ত্রী বিলকিস আরা বেলী বাদী হয়ে দুদিন পর জেলা মেহেরপুর যুবলীগের তৎকালীন সভাপতি সাজ্জাদুল অনাম, অর্থ সম্পাদক ও বর্তমান পৌর মেয়র মাহাফুজুর রহমান, শহিদুল ইসলামসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে পৌর মেয়র মাহফুজুর রহমান ও তাঁর শ্যালক আরিফুর রহমান, জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি সাজ্জাদুল আনামকে অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়া হয়। পরে মামলা সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হলে শহিদুল ইসলাম, তাঁর ভাই বাদশা, ইয়ানুস, আফজাল, মাহফুজ ও জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি সাজ্জাদুল আনামকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন পল্লব ভট্টাচার্য। আসামিপক্ষে ইয়ারুল ইসলাম, কামরুল ইসলামসহ একাধিক আইনজীবী মামলা পরিচালনা করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী ইয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা রায়ে সন্তুষ্ট।’ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পল্লব ভট্টাচার্য বলেন, ‘বিচারক অভিযোগপত্রভুক্ত ছয় আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন। আমরা রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পেলে পরবর্তীকালে আপিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’
Tuesday, January 27, 2015
আমাকে রাজনীতি থেকে সরানোর হীন ষড়যন্ত্র চলছে
Friday, June 27, 2014
মেহেরপুরে রিপন হত্যার বিচার দাবি
যুবলীগ নেতা ও প্যানেল মেয়র মিজানুর রহমান রিপন হত্যাকরীদের বিচার দাবীতে সাংবাদিক সম্মেলন
নিহত রিপনের স্ত্রী রুমানা আক্তার রনি। এসময় রিপনের মেয়ে মাহবুবা রহমান রোজা, ছেলে মুশফিক রহমান, পিতা আব্দুল হালিম, মাতা শুরুজ জাহান, বোন শেফা নুর আরা, শাশুড়ী জেসমিন আরা বেগম,ছোট ভাই রিটনসহ জেলা যুবলীগের সভাপতি সাজেদুল ইসলাম, শহর যুবলীগের সভাপতি শেখ কামাল উপস্থিত ছিলেন। নিহত রিপনের স্ত্রী রনি কান্না জড়িত কন্ঠে সাংবাদিকদের বলেন, রিপনের মত আমাদের পরিবারের সবাইকে হত্যা করলে এ মামলার কেউ আর বিচার চাইবেনা। আমরা এখন বেঁচে থেকেও মৃত হয়ে আছি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, রিপনকে হত্যার পর সরকারের উঁচ্চ মহলের অনেক লোক আমাদের বাড়িতে গেছে শান্তনার বানি শুনিয়েছেন কিন্ত বাড়ির গেট পার হওয়ার পরে তারা সকলেই ভূলে গেছে। হত্যার ১০ মাস পর হলেও রিপন হত্যা মামলার আসামীদের আটক করতে পারেনী পুলিশ। মামলার প্রধান আসামী মেহেরপুর পৌর মেয়র মোতাচ্ছিম বিল্লাহ মতু, ২ নং আসামী জেলা যুবলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক ও ৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল্লাহ আল মামুন বিপুলসহ অন্যান্য আসামীরা
মেহেরপুর শহর যুবলীগের সম্পাদক প্যানেল মেয়র রিপনের ২ শিশু সন্তান নিরাপত্তাহীনতায় গৃহবন্দি
নিহত রিপনের ছেলে মেয়ে একা একা স্কুলে যেতে পারছেনা এমনকি বাড়ির সামনে খেলার মাঠেখেলতে পারছেনা জীবন নাশের আশংকায়।
আজ সোমবার বিকালে কান্না জড়িত কন্ঠে কথাগুলো জানান নিহত রিপনের স্ত্রী রনি খাতুন।
রনি খাতুন বলেন,মৃত্যুকালিন জবান বন্দীতে রিপন পৌর মেয়র মোতাছিম বিলাহ মতু, থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি হাজী গোলাম রসুল ,জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাড.মিয়াজান আলী সহ জেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক ও পৌর কমিশনার বিপুলের নাম উলেখ করেন। কিন্তু পুলিশ রিপনের মৃত্যুর আগে জাবানবন্দিকৃত সব আসামীদের অজ্ঞাত কারনে আটক করেনি।
রিপনের স্ত্রী রনি কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন ,রিপন হত্যার ২ বছর পার হলেও আমরা এখনও কোন বিচার পায়নি। তিনি অভিযোগ করেন,মামলা টি পুলিশের কাছ থেকে সিআইডির কাছে দেওয়া হয়। কিন্তু সিআইডি,মোতাচ্ছিমবিলাহ মতু গোলাম রসুল ও , মিয়াজান আলীর নাম বাদ দিয়ে ফাইনাল রিপোর্ট কোর্টে পাঠায়।
তাই আমরা তা না মেনে কোর্টে নারাজি দিয়েছি। তিনি আরো বলেন মামলা তুলে নিতে আসামীরা অনবরত চাপ দিচ্ছে। আমি ছেলে মেয়ে নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমার ছেলে মেয়ে কে আমি একা স্কুলে পাঠাতে পারিনা। তাদের সব সময় গৃহবন্ধি করে রাখি মাঝে মাঝে তাদের কে সঙ্গে করে বাড়ির পিছনে খেলতে নিয়ে যাই তারা যতক্ষন খেলে ততক্ষন আমি তাদের পাহারা দিই। আমি ছেলে মেয়ে নিয়ে সব সময় মৃত্যু আশংকায় থাকি।
মেহেরপুরে প্যানেল মেয়র রিপন হত্যাআসামিদের দল ক্ষমতায়, তাই... তানিয়া লাবণ্য
রিপন হত্যা মামলা প্রসঙ্গে মেহেরপুর-১ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন কালের কণ্ঠকে বলেন, আসামিদের দল ক্ষমতায়। তাই তারা সহজেই পুলিশ ম্যানেজ করে যা ইচ্ছা তাই করতে পারছে। এ রকম হতে থাকলে মানুষ আইনের প্রতি আস্থা হারাবে।
পুলিশ ঘটনার পর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন ওরফে বিপুলকে আটক করে। বিপুল পুলিশকে স্বীকারোক্তি দেয় বোমা হামলার সঙ্গে পৌর মেয়র মোতাছিম বিল্লাহ মতু, গোলাম রসুল, অ্যাডভোকেট মিয়াজান আলী, আমদহ ইউপি চেয়ারম্যান আনারুল ইসলাম, বোমাবাজ লাল্টু, মাসুদ রানা, জাহাঙ্গীর ও আকালী জড়িত। পরে পুলিশ লাল্টু ও জাহাঙ্গীরকে আটক করে। এরপর আর মামলার গতি এগোয়নি। এর মধ্যে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি বিপুল জামিনে বেরিয়ে এসেছে। মামলার প্রধান আসামি মেয়র মোতাছিম বিল্লাহ মতু হাইকোর্ট থেকে এক মাসের জন্য এই মামলায় জামিন হলেও নিম্ন আদালতে আর হাজির না হওয়ায় পরে হাইকোর্ট তাঁকে আটকের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। ওই নির্দেশের পর তিনি পলাতক।
মেহেরপুরে প্যানেল মেয়র রিপন হত্যার বিচার দাবি পরিবারের
দুই মাস অতিবাহিত হলেও মেহেরপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও শহর যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান রিপন হত্যাকাণ্ডের মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। রিপনের পরিবারের অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডের মদদদাতারা প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছে না। এ ছাড়া বোমা হামলার সঙ্গে সরাসরি জড়িত লাল্টুকে আটক করার পর তার দেওয়া জবানবন্দির পরও পুলিশ মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করছে না। এ অবস্থায় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে রিপনের পরিবার।
ঘটনার বিবরণ
মুজিবনগর দিবসে মেহেরপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকজনের সাদা পোশাকে অবস্থানের মধ্যেই গত ১ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টার দিকে মেহেরপুর জেলা শহরের হোটেলবাজারের রাজধানী শপিং মলে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। এতে মেহেরপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র শহর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান রিপন, পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আবদুল্লাহ বিন হাশেমসহ দোকানের তিন কর্মচারী গুরুতর আহত হন।
৮ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় রিপন মারা যান। বোমা হামলার রাতেই বোমা হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে মেহেরপুর থানা পুলিশ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন বিপুলকে হাসপাতাল থেকে এবং মোমিন নামে আরেকজনকে আটক করে। এ ছাড়া ওই ঘটনায় বোমা











