.

Friday, June 27, 2014

মেহেরপুর শহর যুবলীগের সম্পাদক প্যানেল মেয়র রিপনের ২ শিশু সন্তান নিরাপত্তাহীনতায় গৃহবন্দি

স্টাফ রিপোর্টার ঃ মেহেরপুরপৌর প্যানেল মেয়র ও শহর যুবলীগের সাধারন সম্পাদক  মিজানুর রহমান রিপনের স্ত্রী ২ শিশু সন্তান নিরাপত্তার অভাবে গৃহবন্ধি জীবন যাপন করছেন।
নিহত রিপনের ছেলে মেয়ে একা একা স্কুলে যেতে পারছেনা এমনকি বাড়ির সামনে খেলার মাঠেখেলতে পারছেনা জীবন নাশের আশংকায়।
আজ সোমবার বিকালে কান্না জড়িত কন্ঠে কথাগুলো  জানান নিহত রিপনের স্ত্রী রনি খাতুন।
রনি খাতুন বলেন,মৃত্যুকালিন জবান বন্দীতে রিপন পৌর মেয়র মোতাছিম বিল­াহ মতু, থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি হাজী গোলাম রসুল ,জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাড.মিয়াজান আলী সহ জেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক ও পৌর কমিশনার বিপুলের নাম উলে­খ করেন। কিন্তু পুলিশ রিপনের মৃত্যুর আগে  জাবানবন্দিকৃত সব আসামীদের অজ্ঞাত কারনে আটক করেনি।
রিপনের স্ত্রী রনি  কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন ,রিপন হত্যার ২ বছর পার হলেও আমরা এখনও কোন বিচার পায়নি। তিনি অভিযোগ করেন,মামলা টি পুলিশের কাছ থেকে সিআইডির কাছে দেওয়া হয়। কিন্তু সিআইডি,মোতাচ্ছিমবিল­াহ মতু গোলাম রসুল ও , মিয়াজান আলীর নাম বাদ দিয়ে ফাইনাল রিপোর্ট কোর্টে পাঠায়।
তাই আমরা তা না মেনে কোর্টে নারাজি দিয়েছি। তিনি আরো বলেন মামলা তুলে নিতে আসামীরা অনবরত চাপ দিচ্ছে। আমি ছেলে মেয়ে নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমার ছেলে মেয়ে কে আমি একা স্কুলে পাঠাতে পারিনা। তাদের সব সময় গৃহবন্ধি করে রাখি মাঝে মাঝে তাদের কে সঙ্গে করে বাড়ির পিছনে খেলতে নিয়ে যাই তারা যতক্ষন খেলে ততক্ষন আমি তাদের পাহারা দিই। আমি ছেলে মেয়ে নিয়ে সব সময় মৃত্যু আশংকায় থাকি।

নিহত রিপনের পিতা আব্দুল হালিম বলেন, আমার ছোট ছেলে রিটন ভাই হত্যার বিচার চেয়ে আইনি লড়াই করার কারনে তাকে দূর্বল করতে তার নামে হত্যা মামলা করেছে রিপন হত্যা মুল আসামীরা।
আদালতে রিপনহত্যা মামলার তদন্তের বিরুদ্ধে তার পরিবারের নারাজি আবেদনের শুনানি থাকায় পুলিশ ও সিআইডি কোন মন্তব্য করতে নারাজ।
অপর দিকে মেহেরপুর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধেও রয়েছে রিপন হত্যা মামলার  প্রভাবিত করার অভিযোগ। এ অভিযোগ তুলে কুষ্টিয়া  সিআইডি পরিদর্শক আকিদুল ইসলাম মেহেরপুর সদর থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেছেন। যার সাধারন ডায়েরী নং ৯৭৩  তাং২৮/০৯/১১। জিডিতে তিনি উলে­খ করেছেন, “সংসদ সদস্য রাগম্বিত হয়ে বলেছেন, সিআইডিতে মামলা দেওয়া হবেনা, কেন অপনি বার বার আসেন। আমার ৪ জন স্বাক্ষী আছে তাদের ১৪৪ ধারায় আদালতে স্বাক্ষী নেবেন,তা না হলে মামলার তদন্ত করতে আসবেন না”।
মেহেরপুর ১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামলীগের সভাপতি জয়নাল আবেদীন বলেছেন, এক সময়কার ফ্রিডম পাটির নেতা বর্তমান আওয়ামীলীগে ঢুকে যুবলীগনেতা রিপনকে হত্যাকরে আওয়ামীলীগ ধ্বংশের ষড়যন্ত্রে মেতেছে।
মেহেরপুর সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি গোলাম রসুল বলেন,রিপন হত্যার বিচার আমরাও চাই। তবে তা সুষ্ঠ তদন্তর মাধ্যমে সঠিক বিচার হতে হবে।
মেহেরপুর পৌর মেয়র মোতাচ্ছিমবিল­হ মতু বলেন, পৌর নির্বাচনে পরাজয় বরন করে ক্ষমতাশীন দলের একটি মহল আমার বির“দ্ধে মামলা দিয়ে আমাকে পৌরবাসীর সেবা প্রদান থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করছে।
পৌর সভার প্যানেল মেয়র মিজানুর রহমান রিপনের ২য় মৃত্যুবার্ষিকী পালনের লক্ষে পরিবার ও যুবলীগের পক্ষে থেকে  সকালে নিহত রিপনের কবর জিয়ারত, মসজিদে মসজিদে দোয়া মাহাফিল ও জাগ্রত তরুন স¤প্রদায় ক্লাবে স্মরনসভার আয়োজন করা হয়েছে।
বিভিন্ন সংগঠন মেহেরপুর শহরের “একটাই দাবী রিপন হত্যার বিচার চায়”শে­াগান সম্বলিত ব্যানার আর ফেসটুনে ভরে দিয়েছে শহর।
উলে­খ্য,১এপ্রিল ২০১১ তারিখে রাতে রিপনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বোমা হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। বোমা হামলায় মারাতœক আহত হয় মেহেরপুর প্যানেল মেয়র রিপন। ঢাকার এ্যাপোলো হাসপাতালে সপ্তাহব্যাপী মুত্যু’র সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে ৮ এপ্রিল সে মারা যায়।