Friday, June 27, 2014
মেহেরপুরে প্যানেল মেয়র রিপন হত্যার বিচার দাবি পরিবারের
( ৩১ -০৫ - ২০১১ )
দুই মাস অতিবাহিত হলেও মেহেরপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও শহর যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান রিপন হত্যাকাণ্ডের মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। রিপনের পরিবারের অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডের মদদদাতারা প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছে না। এ ছাড়া বোমা হামলার সঙ্গে সরাসরি জড়িত লাল্টুকে আটক করার পর তার দেওয়া জবানবন্দির পরও পুলিশ মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করছে না। এ অবস্থায় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে রিপনের পরিবার।
ঘটনার বিবরণ
মুজিবনগর দিবসে মেহেরপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকজনের সাদা পোশাকে অবস্থানের মধ্যেই গত ১ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টার দিকে মেহেরপুর জেলা শহরের হোটেলবাজারের রাজধানী শপিং মলে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। এতে মেহেরপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র শহর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান রিপন, পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আবদুল্লাহ বিন হাশেমসহ দোকানের তিন কর্মচারী গুরুতর আহত হন।
৮ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় রিপন মারা যান। বোমা হামলার রাতেই বোমা হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে মেহেরপুর থানা পুলিশ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন বিপুলকে হাসপাতাল থেকে এবং মোমিন নামে আরেকজনকে আটক করে। এ ছাড়া ওই ঘটনায় বোমা
হামলার রাতেই প্যানেল মেয়র রিপনের বাবা আবদুল হালিম বাদী হয়ে মেহেরপুর থানায় একটি অভিযোগ করেন। এতে মেহেরপুর পৌরসভার মেয়র মোতাছিম বিল্লাহ মতু, মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মিয়াজান আলী, সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. গোলাম রসুল ও পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন বিপুলকে আসামি করেন। পর দিন আবার নতুন করে এজাহার দায়ের করেন রিপনের বাবা। নতুন এজাহারে অ্যাডভোকেট মিয়াজান আলী ও গোলাম রসুলকে বাদ দেন তিনি।দুই মাস অতিবাহিত হলেও মেহেরপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও শহর যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান রিপন হত্যাকাণ্ডের মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। রিপনের পরিবারের অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডের মদদদাতারা প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছে না। এ ছাড়া বোমা হামলার সঙ্গে সরাসরি জড়িত লাল্টুকে আটক করার পর তার দেওয়া জবানবন্দির পরও পুলিশ মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করছে না। এ অবস্থায় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে রিপনের পরিবার।
ঘটনার বিবরণ
মুজিবনগর দিবসে মেহেরপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকজনের সাদা পোশাকে অবস্থানের মধ্যেই গত ১ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টার দিকে মেহেরপুর জেলা শহরের হোটেলবাজারের রাজধানী শপিং মলে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। এতে মেহেরপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র শহর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান রিপন, পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আবদুল্লাহ বিন হাশেমসহ দোকানের তিন কর্মচারী গুরুতর আহত হন।
৮ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় রিপন মারা যান। বোমা হামলার রাতেই বোমা হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে মেহেরপুর থানা পুলিশ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন বিপুলকে হাসপাতাল থেকে এবং মোমিন নামে আরেকজনকে আটক করে। এ ছাড়া ওই ঘটনায় বোমা
রিপনের পরিবারের অভিযোগ
নিহত মিজানুর রহমান রিপনের বাবা আবদুল হালিম বলেন, 'রিপন মারা যাওয়ার আগে জেলা প্রশাসনকে হত্যার সঙ্গে জড়িত সবার নাম উল্লেখ করে জবানবন্দি দিয়ে গেছে। আমরা রিপনের হত্যাকারীদের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি।' আবদুল হালিম জানান, 'রিপন হত্যার দুই মাস পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত সব আসামি আটক করতে পারেনি। আবার আটককৃতরা জবানবন্দি দিলেও মামলার গতি ধীর। প্রকৃত বিচার হবে কি না সন্দেহ। রিপনের বাবার অভিযোগ, রিপন মৃত্যুর আগে জবানবন্দি দিয়ে গেছে মেয়র মতু এই হত্যার সঙ্গে জড়িত। কিন্তু পুলিশ তাকে এখনো আটক করছে না।
অভিযুক্ত পৌর মেয়রের বক্তব্য
মেহেরপুর পৌরসভার মেয়র মোতাছিম বিল্লাহ মতু জানান, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে তাঁর নামে মামলা করা হয়েছে। তিনি এ মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। তবে ক্ষমতাসীন দলের হুমকির মুখে গত দুই মাস তিনি অফিস করতে পারছেন না। সচিব, স্থানীয় সরকার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কাছে নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেছেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা এ ব্যাপারে কোনো সাড়া না দেওয়ায় তিনি এলাকায় ফিরতে পারছেন না বলে দাবি করেন।
এদিকে রিপন হত্যার এক মাস পর পুলিশ মেহেরপুর শহরের থানাপাড়ার সেকেন্দার আলীর ছেলে মাসুদকে ফরিদপুর জেলা সদরের কবিরপুর থেকে এবং ঢাকার উত্তরা এলাকা থেকে মেহেরপুর পুলিশ জেলার গাংনী উপজেলার অলিপাড়ার আরশাদের ছেলে লাল্টুকে আটক করে। তারা ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ আলীর কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে বোমা হামলার দায় স্বীকার করেছে।
পুলিশের ভাষ্য
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে মেহেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাসান হাফিজুর রহমান জানান, রিপন হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত চারজন আসামি আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন বিপুল, শহরের থানাপাড়ার সেকেন্দার আলীর ছেলে মাসুদ ও গাংনী উপজেলার অলিপাড়ার আরশাদের ছেলে লাল্টু জড়িত থাকার সুস্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে। তাদের স্বীকারোক্তিতে আরো অনেকের নাম এসেছে। তাদের গ্রেপ্তারের জোর চেষ্টা চলছে। তবে মামলার স্বার্থেই তাদের নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না।
তানিয়া লাবণ্য, মেহেরপুর



